অধিকতর তদন্তের আবেদন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওর দুর্নীতির মামলায় দুদকের দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক এই আবেদন জানান। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টির জন্য একটি তারিখ ধার্য রাখার আদেশ দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে হাওরের ফসল ডুবে জেলাব্যাপী দুর্যোগ নেমে আসায় বাঁধ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ৬১ জনকে আসামী করে ২০১৭ সালের ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা (মামলা নম্বর ২, সুনামগঞ্জ সদর থানা) দায়ের করেছিল দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় আসামির তালিকায় পানি উন্নয়ন বোডের্র ১৫ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা এবং ৪১ জন ঠিকাদার ছিলেন। প্রায় দুই বছর পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ৬১ জন আসামীর মধ্যে ২৮ জনকে অব্যাহতির প্রার্থনা জানিয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে।
আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট একই অভিযোগে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা (স্পেশাল, পিটিশন ১২/১৭ ইং) হয়। আইনজীবীর সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আদালতে মামলা দায়ের করেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক। মামলায় আসামি করা হয় ১৩৯ জনকে। এর মধ্যে দদুকের মামলার ৬১ জন আসামিও আছেন। এর বাইরে ৭৮ জন হলেন ৩৯ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানোর আদেশ দেন। এখনো এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয় নি। দুদকের দায়ের করা মামলার শুনানীর দিন ধার্য ছিল বুধবার। সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার শুনানী দিনে জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আদালতকে জানান, দুদক’এর তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক ঠিকাদার ও পিআইসি সদস্যরা বাদ পড়েছে। এজন্য আইনজীবী সমিতির দায়ের করা মামলাকে দুদকের মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান তিনি। এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট চান মিয়া, অ্যাডভোকেট রবিউল লেইছ রোকেস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী সমিতির দায়ের করা মামলার বাদী মো. অ্যাডভোকেট আব্দুল হক জানান, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, দুদকে’র আবেদন গ্রহণ না করার জন্য। কারণ এই প্রতিবেদনে অনেক দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও পিআইসি সদস্যরা বাদ পড়েছে।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট পরিতোষ দাশ জানান, আদালত অ্যাডভোকেট আব্দুল হক’র আবেদনটি গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টির জন্য একটি তারিখ ধার্য রাখার আদেশ দিয়েছেন। আগামী কাল বৃহস্পতিবার এই ধার্য তারিখ জানা যাবে বলে জানান তিনি।