অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর

সু.খবর ডেস্ক
অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর। ফাইল ছবিইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে পা রাখার কথা প্রায় তিন মাস পর। কিন্তু পরশু ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নৃশংস ও ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার পর সেই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ইংল্যান্ডের, ইতিমধ্যে যার সিডিউলও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে  ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে। যদিও স্পর্শকাতর এই ইস্যু নিয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না।
তবে বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। পুরো দেশের জন্য এটা খুবই হতশাজনক খবর। ইতিপূর্বে বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটন ঘটেনি। দেশের সব সেক্টরের জন্যই এটা বড় ধাক্কা। আমি ক্রিকেট নিয়েও চিন্তিত। আগামীতে এখানে স্পর্শকাতর কিছু দলকে আনা একটু কঠিন হয়ে যেতে পারে।’
তাহলে কি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল? শেখ সোহেল বলেন, ‘আসলে ক’য়েকটা দল আমাদের এখানে আসতে বরাবরই অজুহাত খুঁজে। গত বছর কোনো কারণ ছাড়াই নিরাপত্তার অজুহাত দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশ সফর বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দল পাঠায়নি তারা। নতুন পরিস্থিতি আমাদের তো একটু বেকায়দায় ফেলতেই পারে। কারণ আগে আমাদের যুক্তি ছিল। আমাদের অবস্থান শক্ত ছিল। কিন্তু এখন আমাদের তো কোনো যুক্ত থাকলো না। ইংল্যান্ড এখন এই ইস্যু সামনে আনতেই পারে।’
তবে সোহেল আশা করছেন, ইংল্যান্ড ঠিকই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে আসবে। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া না এলেও বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ দল পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। তারা সিনিয়র দলও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি সফর ঠিকঠাকই হবে। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো। তারপরেও আমাদের অপেক্ষা কতে হবে। তারা কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটা আগে জানতে হবে। এখনো হাতে অনেক সময় আছে। আশা করি সমস্যা হবে না। আমরা সবসময়ই সফলভাবে সিরিজ বা টুর্নামেন্টে আয়োজন করে এসেছি। আমাদের এ নিয়ে যথেষ্ঠ সুনাম আছে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে এসেছি। সামনেও আরও বেশি নিরাপত্তা দেয়া হবে। আসলে এমন ঘটনা যেকোনো দেশেই ঘটতে পারে এবং ঘটছেও। ভারতে ঘটেছে, ফ্রান্সে ঘটেছে। দেখবেন, সেখানে কোনো কিছু থেমে নেই। ফ্রান্সে এখন ইউরো চলছে। ভারতে সব ধরনের টুর্নামেন্টই তো হচ্ছে। হ্যাঁ, আমাদের চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গেল।’
এদিকে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক ও বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন গুলশান কা-ের কারণে ইংল্যান্ড সিরিজের ওপর নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ‘কী বলবো। ব্যক্তিগতভাবে আমি মর্মাহত। এটা দেশের জন্য খুবই খারাপ খবর। দেশ যখন সব দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তখন এমন ঘটনা খুবই কষ্টের। তবে আমার মনে হয় না এ ঘটনা ইংল্যান্ড সিরিজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ বর্তমান বিশ্বে এমন ঘটনা প্রায় সব দেশেই ঘটছে। তারপরেও সব কিছু চলছে। আমরা বারবার সফলভবে যেকোনো আয়োজনই সম্পন্ন করেছি। অতীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামনে সেটা হয়তো আরও জোরদার করা লাগতে পারে।’
সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট আরেশন কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, ‘ব্যাপারটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা দেশের জন্য বিব্রতকর। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটেও এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তেও পারে। দেখা যাক কী হয়।’
নিরাপত্তা ইস্যু সামেনে এনে গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর বাতিল করে দেয় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। এরপর চলত বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দল পাঠায়নি অজিরা। শুক্রবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় ২০ বিদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা বিসিবিকে নতুন করে সমস্যায় ফেলে দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ইসিবির এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘ইসিবির কাছে খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের যেকোনো দলের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।’
ওই মুখপাত্রই জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইসিবি। সফরের আগে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে খুঁটিনাটি জানতে পাঠাবে পরিদর্শক দলও। সবকিছু শেষে যদি কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটিও নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ইসিবির মুখপাত্র, ‘আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোয় আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। ইংল্যান্ড দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখতে সফর-পূর্ব পরিদর্শনটা হবে খুব নিবিড়। এর পর সবকিছু নিরাপদ এবং যথাযথ মনে না হলে আমরা সেই অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেব।’