অনিশ্চয়তা কাটেনি প্রকল্প অনুমোদনে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি ব্যয়ে অস্থায়ী ক্লোজার নির্মাণ ব্যয় কমাতে এবং বাঁধ কাটার প্রবণতা রোধ করতে স্থায়ীভাবে ৯০ টি কজওয়ে নির্মাণের প্রস্তাবনা এখনো কার্যকর হয় নি। এই প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছরের অর্থের রোধ হওয়া ছাড়াও অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাবার শঙ্কা কমে যেত।
বাঁধের ক্লোজার বা ভাঙন সাধারণত নদী তীরবর্তী জলমহালের পাশেই বেশি হয়ে থাকে। কোন কোন ক্লোজার অবশ্য বর্ষায় নৌ-চলাচলের জন্য হয়ে আসছে আগে থেকেই।
শনির হাওরের লালুর ঘোয়ালা ক্লোজারের পাশে জমি আছে হাওরপাড়ের রাজধরপুর গ্রামের আব্দুল আউয়াল, শুক্কুর আলী ও প্রান্তিক কৃষক হাদিসনূরের। এঁরা তিনজনই গত রোববার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানালেন, লালুর ঘোয়ালা বাঁধ এবার কে কাটলো, কেন কাটলো জানে না তারা। এই বাঁধতো ভাঙেনি। একদিন সকালে তারা দেখেছেন বাঁধ অনেক ভালো অবস্থায় আছে, বিকালে এসে দেখেন অনেক বড় ভাঙন। এই প্রান্তিক কৃষকরা জানালেন, তাদের মনে হয়েছে মাছ ধরার জন্য বা হাওরে মাছ প্রবেশের সুবিধার জন্য কেউ হয়তো এই কাজ করেছে।
কেবল লালুর ঘোয়ালা নয়, হাওরের পাশের নদীর পাড়ের বেশিরভাগ ক্লোজার মাছ ধরার জন্য প্রতিবছরই কেটে দেওয়া হয়। পরে কোটি টাকা ব্যয় হয় ক্লোজার নির্মাণে। গেল বোরো মৌসুমে লালুর ঘোয়ালায় ক্লোজার নির্মাণে ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এবারও হয়তো সেই পরিমাণ টাকাই লাগবে।
হাওরপাড়ের প্রান্তিক কৃষকদের বহুদিনের দাবি বছর বছর ক্লোজার বা ভাঙনে বাঁধ দেবার নামে বড় অংকের টাকার অপচয় হয়। এই অপচয় রোধ করার জন্য হাওরের ফসল রক্ষার জন্য বিএডিসি এবং এলজিইডি ইতিপূর্বে কিছু রাবারড্যাম নির্মাণ করেছে। যা মানুষের উপকারেও এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের হাওরের এসব ক্লোজারে স্থায়ীভাবে কজওয়ে নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব পাঠায় গেল বছরের ১৮ ডিসেম্বরে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দাবি, হাওরের বাঁধগুলোর ক্লোজার অংশে কজওয়ে নির্মাণ হলে বর্ষার পর দ্রুত সময়ে হাওরের পানি নিস্কাশন হবে। কৃষকের জমি বোরো ধান রোপনের উপযোগী করা যাবে সঠিক সময়ে। বর্ষায় নৌ-চলাচলের অজুহাতে ডুবন্ত বাঁধ কাটার প্রবণতা কমানো যাবে। প্রতিবছর একই স্থানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় কমানো যাবে। ক্লোজার নির্মাণের সময় মাটি পাবার সংকটও দূর হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত পহেলা মার্চ তাদের পক্ষ থেকে ৯০ টি কজওয়ে এবং নয় কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ ডুবন্ত বাঁধের স্লোপ প্রটেকশন কাজ করার জন্য ৪৯৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্প একাধিকবার যাচাই বাছাই শেষে এখন এক নেক‘র অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
সুনামগঞ্জ পানি বোর্ডের একজন প্রকৌশলী জানান, অক্টোবরের দুই তারিখে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জাকির হোসেন আখন্দ এই প্রকল্পের সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য হাওর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখে গেছেন। কিন্তু এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন হয় নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন হওয়া প্রয়োজন। বছরে বছরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা, বাঁধ কেটে দেওয়া, মাটি প্রাপ্তি নিয়ে সমস্যা মিঠে যেত। অকাল বন্যা থেকে ফসল রক্ষার নিশ্চয়তাও বেড়ে যেত।