অনিয়মের অভিযোগ- দিরাইয়ে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাইয়ে সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদায়নে বিষয়ে নীতিমালা লংঘন করে সুবিধাজনক জায়গায় পদায়নের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মামলায় জড়িত বিদ্যালয়ে পদায়নের আদেশ প্রদান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশকৃত বিদ্যালয়ে পদায়ন না করার মত অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জেলা প্রাথমকি শিক্ষা অফিসে গোপনে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার স্বজনরা।
জানা যায়, দিরাই উপজেলায় প্রধান শিক্ষককের শূন্য পদ ৬২টি। এর মধ্যে ৩৭জন শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িতপ্র্রাপ্ত হিসেবে ৩৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রত্যেকের নিকটস্থ বিদ্যালয়ে পদায়নের নীতিমালা থাকলেও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গ্রামের শিক্ষকদের শহরে পদায়ন এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানে অক্ষম শহরের শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে পদায়ন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকসহ তাদের স্বজনরা।
দিরাই পৌর শহরের স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষক নিরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার বাড়ী পৌর শহরে, আমাকে পদায়ন করা হয়েছে শহর থেকে ৪০কিলোমিটার দূরের স্কুলে।
অন্যদিকে রফিনগর ইউনিয়নের খাঘাউড়া গ্রামের বাসিন্দা আভারাণী সরকারকে পৌর সদরে পদায়ন করা হয়েছে।
শিক্ষক চম্পা রানী রায়’র স্বামী অনুপম চৌধুরী বলেন, চৌদ্দ পুরুষ থেকে আমরা পৌর সদরের বাসিন্দা। আমার স্ত্রীকে পৌর সদরের স্কুলে পদায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সুপারিশ রাখা হয়নি।
অন্যদিকে সদ্য জাতীয়করণকৃত পুর্ব চন্ডিপুর, ধাপকাই, রাধানগর, নতুন কর্নগাঁও, পশ্চিম শরিফপুর, পিতাম্বরপুর ও ভাটিধল এই ৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ থাকার পরও স্কুলগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় কারণে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সেখানেও পদায়নের আদেশ দিয়েছেন তিনি। এসব বিদ্যালয়ে পদায়ন করায় ধূ¤্র জালের সৃষ্টি হয়েছে।
দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এ হালিম বলছেন, শূন্য পদের তালিকা যথাযথভাবে প্রেরণ করেছি এবং মামলায় জড়িত ৭টি স্কুলের তথ্য প্রদানকালে মন্তব্য কলামে মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারই এসব স্কুলে পদায়নের আদেশ দিয়েছেন। এতে আমার কোন হাত নেই।
সদ্য জাতীয়করণকৃত ধাপকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঊফ মিয়া জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এমনকি শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও সরকারের নীতিমালা লংঘন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুবিধাজনক স্থানে পছন্দমত পদায়ন দেয়া হয়েছে। আমাদের উপজেলায় ৬২টি শূন্য পদে ৩৭জনকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু ৭টি বিদ্যালয় মামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অবগত থাকার পরও সেখানে পদায়ন করেছেন। জেলার সদর উপজেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলায় যে সকল বিদ্যালয় মামলায় জড়িত সে সব বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়নি। কিন্তু একই জেলার দিরাই উপজেলায় মামলায় জড়িত বিদ্যালয় গুলোতে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করে যে, হাইকোর্টে রীট পিটিশন মামলা চলমান রয়েছে, তা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলিত দায়িত্বে পদায়ন করা যাবে না।
২৩ এপ্রিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করা হয় যে, সদ্য জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যে সকল বিদ্যালয়ে আদালতে রীট পিটিশন মামলা চলমান আছে সে গুলো শূন্য পদ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। অথচ ২৪ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশিত পদায়িত শিক্ষকদের তালিকায় মামলায় জড়িত দিরাই উপজেলার ৭টি বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা র্কমর্কতা পঞ্চানন বালা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘মাত্র দুইদিন সময় পেয়েছিলাম কাজ করার। আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করেছি। প্রভাবিত হয়ে বা স্বার্থ আদায় করে কোন কাজ করিনি।