অনিয়মের অভিযোগ, বাধার মুখে বন্ধ দোয়ারায় ব্রিটিশ সড়কের নির্মাণ কাজ

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ রয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিটিশ সড়কের কাজ। সড়কের কাজে কোন নিয়ম মানছেন না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছালেহ ইসলামের লক্ষ্মীপুর-ফরিদপুর কনস্টাকশন। ডিজাইন অনুয়ায়ী কোন কাজ করা হচ্ছে না। কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়রা কথা বললে চাঁদাবাজি মামলা ও র‌্যাবের ভয় ভীতি দেখায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। সড়কের কাজে মাটি মেশানো বালু ও ময়লা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। গত সোমবার রাস্তার ঢালাইসহ বিভিন্ন কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথাকাটাকাটি হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, আর সি সি ৮ ইঞ্চি ডালাই করার কথা থাকলেও ৫ থেকে সাড়ে ৫ ইঞ্চি ডালাই করে করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাকা শক্ত করার মেডিসিন দেওয়ার কথা থাকলেও মেডিসিন ব্যবহার করছে না তারা। রাস্তার রডের ৫০ টা রডের মধ্যে ২৫ টা রডের দুই পাশে ১ ফুট করে কম।
জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার সড়কের ব্রিটিশ পয়েন্ট হয়ে বালিউড়া পর্যন্ত উপজেলার দীর্ঘ দিনের জরাজীর্র্ণ ব্র্রিটিশ সড়কটি ৩ ইউনিয়নের জনগণের চলা চলের একমাত্র রাস্তা। গত বছর সড়কটির কাজের বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় ২২ কোটি টাকা। কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় গত বছরের ২০ অক্টোবর।
ব্রিটিশ পয়েন্টের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজে শুরু থেকে অনিয়ম করে চলছে। কাজ করছে তাদের মন গড়া গতিতে। রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকায় ৩ টি ইউনিয়নের জনগণের ভোগান্তিরও শেষ নেই।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাথর সাপ্লাইয়ার ও তদারকির দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাকে স্থানীয় কয়েক জন মারপিট করছে। সহযোগিতার জন্য র‌্যাবের আশ্রয় নিয়েছি।’ মূল ঠিকাদার ও সাইট ম্যানাজারের মোবাইল নাম্বার চাইলে সে বলে, ঠিকাদার ও ম্যানাজারের নিষেধ আছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী হরজিত সরকার বলেন, ‘পাথরের সংকট ও ঢালাইয়ে ঠিকনেছ কম থাকায় এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ রয়েছে।’