অনুমোদন নেই, তবুও উচ্চ সুদে ঋণের লেনদেন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
ঋণ আদান প্রদানে নেই সরকারি কোনো অনুমোদন। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম। অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার তুলনায় বেশি সুদ গ্রহণ ও মাত্র আড়াই মাসে সুদ সমেত সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের মতো কার্যক্রম পবিচালনা করছে ‘ফাইভ স্টার গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি ভূইফোঁর সংস্থা। সংস্থাটি পরিচালনা করছেন উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের শাহ আলম নামের এক লোক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলা বাজার, দিরাই রাস্তা (মদনপুর পয়েন্ট)সহ উপজেলার একাধিক বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে এমন ঋণের লেনদেন করেন সংস্থাটি। বছর দুই আগে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের (বর্তমানে শান্তিগঞ্জ এলাকার পার্বতীপুরে বসবাসকারী) শাহ আলম ফাইভ স্টার গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার নামে এই ঋণদান প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ ঋণ প্রদানে তাঁর কোন অনুমোদন নেই। অথচ উচ্চ সুদে দোকানে দোকানে গিয়ে ক্ষুদ্র্ঋণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
প্রতি ১০ হাজারে ১ হাজার টাকা জামানত নিয়ে ১০ কিস্তিতে অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে ১ কিস্তি হলে ১০ কিস্তিতে আড়াই মাসে টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি কিস্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে ১১ শত টাকা আদায় করা হচ্ছে। জামানত হিসেবে নেওয়া হয় গ্রাহকের ব্ল্যাঙ্ক চেক ও নগদ ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ আড়াই মাসে এক হাজার টাকা সুদ নেয়া হয়ে থাকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ফাইভ স্টার গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা নামের কোনো সংস্থাকে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে এ নামে কোনো সংস্থা পাওয়া যায় নি।
এ সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করেন দিরাই রাস্তার (মদনপুর পয়েন্ট) আইয়ূবুর রহমান, আবিদুর রহমান, এশাদুর রহমান, কামরূপদলং গ্রামের জমিরুল হক ও পার্বতীপুর গ্রামের সুয়েব আহমদ।
তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা ফাইভ স্টার সংস্থা থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ উঠিয়েছি। জামানত হিসেবে ১ হাজার টাকা দিয়েছি। আমরা শাহ্ আলম ভাইয়ের কাছে প্রতি সপ্তাহে ১১শ টাকা কিস্তি দেই।’
পার্বতীপুর গ্রামের নূরুল হকের ছেলে বাদশা মিয়া বলেন, ‘ফাইভ স্টার সংস্থা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ তোলার জন্য ৩ হাজার টাকা জামানত দিয়েছি। তিনি আমাকে লোনও দিচ্ছেন না, আমার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। আমাকে শুধু হাঁটাচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে সংস্থাটির পরিচালক হিসেবে পরিচিত শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা একটি ক্ষুদঋণ প্রকল্প খুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমোদন না পেয়ে খুলতে পারি নাই।’ ঋণ দেওয়া ও উঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি ঋণ দেইও না উঠাইও না।’
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন,‘ ফাইভ স্টার গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার নামে ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি নামে আমাদের উপজেলায় কেউ অনুমোদন নেয়নি। অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি তা করে থাকে তাহলে তা আমরা খতিয়ে দেখব।’