অনেকেই হতাশ

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
মো. নাজমুল হকের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কালাগড় গ্রামে। তিনি ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গত শনিবার চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়টি তার জন্য প্রকাশ্যে আনন্দদায়ক হলেও নেপথ্যের বেদনাও কম নয়। পদায়নের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর নিজ ইউনিয়নের যে সকল বিদ্যালয়ে শূন্যপদ রয়েছে তার একটিতে তাঁকে পদায়ন করার কথা। যদি কোনো কারণে তাঁর ইউনিয়নের কোনো বিদ্যালয়ে শূন্যপদ না পাওয়া যায় তাহলে নিকটতম ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ে পদায়নের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তাঁকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। যদিও কালাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শুধু মো. নাজমুল হকের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে তা নয়। এ উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৭ জন শিক্ষকের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক পদায়নের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়োগপত্র ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাইকুরাটি ইউনিয়নে সহকারি শিক্ষকের শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কাজী মাহফুজুর রহমান ও সদর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের সৈয়দ রহমত আলমকে সুখাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সৈয়দপুর গ্রামের মো. মাজহারুল ইসলামকে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। নিজ ইউনিয়নে শূন্যপদ থাকলেও পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরিকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামকে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সদর ইউনিয়নে কামলাবাজ গ্রামের দিলরুবা ইয়াসমিনকে জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরসতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। যদিও সদর ইউনিয়নে শূন্যপদ ছিল। মধ্যনগর ইউনিয়নে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও গলহা গ্রামের এমকে মহসিন উদ্দিন আহম্মদকে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও একই গ্রামের শুভ দেবনাথকে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে শূন্যপদ থাকলেও ওই ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের ধনঞ্জয় সরকারকে পার্শ্ববর্তী বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ঘাসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদ থাকা সত্ব্যেও ঘাসি গ্রামের ঝুমা বিশ্বাসকে চান্দালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন হওয়ায় এ সকল শিক্ষকের অনেকেই যোগদান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন ছুটিতে রয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে জানিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা জানান, দূর দূরান্তে যে সকল শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।