অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে কাজ শেষ হয় নি

বিশেষ প্রতিনিধি
বাঁধের কাজের সময়সীমা শেষ হলেও সুনামগঞ্জে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাওররক্ষা বাঁধ বা ক্লোজারে এখনো কাজ শেষ হয় নি। পাউবো’র দায়িত্বপ্রাপ্তরাই স্বীকার করেছেন ৭৪৪ টি হাওররক্ষা বাঁধের ৪০০ টির মতো বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। বাকী ৩৪৪ টি বাঁধে মাটি পড়েছে, তবে কমপেকশন- স্লোপ করা এখনো বাকী রয়েছে। হাওরপাড়ের কৃষকরা অবশ্য বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজই এখনো শেষ হয় নি।
ইউপি সদস্য মনেছা বেগম ২০১৭ সালে হাওরের প্রলয়ংকরী দুর্যোগের সময় সংগ্রামী নারী জনপ্রতিনিধি’র পরিচয় পান। তিনি এক কাপড়ে প্রায় এক মাস শনির হাওরের বাঁধে ছিলেন।
শনিবার হাওররক্ষা বাঁধের খোঁজ খবর জানতে চাইলে জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনেছা বেগম বলেন,‘আমি নেতা-কর্মকর্তাদের টাকা দিতে পারিনি, এজন্য পিআইসিতে (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) আমার নামও রাখা হয় নি।’
মনেছা বেগম জানালেন, শনির হাওরের সকল বাঁধে এবার যাওয়া হয় নি তাঁর। তবে লালুর গোয়ালা এবং রহমতপুরের বাঁধে গত দুই দিন ঘুরেছেন তিনি।
লালুর গোয়ালা ক্লোজারে মাটির কাজ শনিবার পর্যন্ত শেষ হয় নি জানিয়ে মনেছা বেগম বলেন, এই ক্লোজারে মাটির কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন লাগবে। এরপর কমপেকশন স্লোপ ও দুইপাশে জিও টেক্সটাইল দিতে হবে।
এই হাওরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ রহমতপুর গ্রামের মাঝখান দিয়ে যাওয়া খালের বাঁধ। নদীতে পানি বাড়লেই এই খাল দিয়ে হাওরে পানি ঢুকার আশঙ্কা থাকে।
মনেছা বেগম বললেন, এই খালে যা মাটি দেওয়া হয়েছে, পানির চাপ আটকাবে না। বিষয়টি জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানিয়েছি আমি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল জানালেন, শনির হাওরের লালুর গোয়ালা ক্লোজারে মাটির বাঁধ দেওয়া শেষের দিকে। বৃহস্পতিবার ওখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন বাঁধে স্লোপ কম হয়েছে, স্লোপে আরও মাটি দেবার কথা বলে এসেছেন। রহমতপুর খালে বাঁশ পুতে মাটি দেবার কথাও বলে এসেছেন, ওখানে বাঁশ ধরা আছে। মাটি আরও বেশি দেওয়া লাগবে। সেটাও বলে দেওয়া হয়েছে।
শনির হাওরের লালুর গোয়ালা বা রহমতপুরের খাল কেবল নয়, প্রতিটি হাওরেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয় নি। হয় কমপেকশন বাকি, না হয় স্লোপের কাজ ঠিকভাবে হয় নি।
গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে সুনামগঞ্জের হাওরে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। এবার ৭৪৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ৭৪৪ টি স্থানে বাঁধের কাজ করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধের কাজের সময়সীমা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-১) সাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ৭৪৪ টি বাঁধের কাজের মধ্যে ৪০০ টি’র কাজ শেষ হয়েছে। ৩৪৪ টিতে মাটির কাজ শেষ। স্লোপ, কমপেকশন ও ঘাস লাগানোর কাজ বাকী রয়েছে। আগামীকাল রোববার বাঁধের কাজের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানোর জন্য আবেদন করবেন তাঁরা। তবে কাজ শেষ করতে ১৫ দিন লাগবে না। এক সপ্তাহেই কাজ শেষ হবার কথা।
প্রসঙ্গত. বিগত বছরগুলোর তথ্য অনুযায়ী মধ্য মার্চে অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল তলিয়ে নেবার রেকর্ড রয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বিলম্বে নির্মিত দুর্বল বাঁধ অকাল বন্যা বা পাহাড়ী ঢলে মুহূর্তেই ভেসে যেতে পারে।