- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

‘অন্তর্জালে জালাল’ স্মরণ

উজ্জ্বল মেহেদী
ইন্টারনেটের বাংলা অন্তর্জাল। করোনাবদ্ধ এই সময়ে ক্রমে সবকিছুই জালবন্দি, ঘরবন্দি। অকালপ্রয়াত যুবনেতা মইনুুদ্দিন আহমদ জালালকে কি ঘরবন্দি করে রাখা যেত? তাঁকে কাছ থেকে দেখা ১০০ জনকে জিজ্ঞেস করলে সবার উত্তর হতো একটিই, না। তিনি ঘরে থাকতেন না, ঘরবন্দি থাকতেন না। হোক করোনা না যে কোনো মহামারি।
আজ অকালপ্রয়াণের দুই বছর। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী যে পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল, দ্বিতীয়ত সেই পরিসারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়াস ছিল। আমরা পারলাম না। করোনাবদ্ধ সময়ে ঘরবন্দি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞের মানুষটাকে স্মরণ করতে হচ্ছে। ‘জালাল সংহতি’র আয়োজন। সীমিত পরিসরের একটি আনুষ্ঠানিকতা, নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্তর্জালে জালাল’।
আজ রোববার বেলা তিনটায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে বইয়ের আড়ং ‘বাতিঘরে’ এই আয়োজন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে যে স্মারক তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিরই একটি ধাপ। ‘দেখবো তোমারে’ দুনিয়াবাসীকে দেখানোর পথ তৈরি করা। ইউটিউবে আপলোড করা। অন্তর্জালে জালালকে দেখবেন সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মানুষজন। যেমনটা জীবদ্দশায় ছিলেন তিনি।
একজন সাহসী মানবিক বিপ্লবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল হঠাৎ উড়াল দিয়ে কোথা যেন হারিয়ে গেলেন। হারানোর দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর। আজ এই দিনটা এলো। তিনি আছেন অন্তরজুড়ে, অন্তর্জালে। এই উপলক্ষে গত বছর প্রথম জন্মবার্ষিক উদযাপন কমিটির তৈরি করেছিল তাঁর একটি জীবনীসংক্ষেপ। আন্তর্জাতিক নদীসংগ্রামী সংগঠন অঙ্গীকার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ হিলালউদ্দিন সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিল।
‌’…জালাল মানেই যেন মহাকাশসম অন্তর। বড় বেশি অসময়ে তাঁর চলে যাওয়া। হাওর ঋষি-মানব বরুণ রায়ের কাছে তিনি নিয়েছিলেন মানুষ, জীবন, সমাজ, পৃথিবীকে ভালোবাসার পাঠ। পার্থিব বিষয় সম্পদ তাঁকে এতটুকু টানেনি কখনও। তিনি নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সবার জন্য। তাঁর আবেষ্টন আর বাতাবরণ ছিল হাওর বাংলা আর মাতৃভূমি ছাড়িয়ে পৃথিবীজুড়ে। অকালে এমনি চলে যাওয়ায় কেঁদেছে মানুষ এবং প্রকৃতি। কেঁদেছে সুরমা-কুশিয়ারা জলপ্রবাহ। নিদানকালে পরম নির্ভরতার কাণ্ডারী মানুষটির আকস্মিক প্রয়াণে তাই স্বজন হারানোর বেদনায় কষ্টনীল হয়েছে অজস্র স্বজন পৃথিবী প্রান্তর জুড়ে।
চিরতারুণ্যে অমিত তেজি যুবনেতা মইনুদ্দিন আহমদ জালাল! তাঁর কর্ম ও স্মৃতি সমাজের সর্বব্যাপী বিস্তৃত। ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না কখনও। ব্যক্তিকে খুঁজে নিয়েছিলেন সমষ্টির মাঝে। তাঁর সবকিছু ছিলো সর্বজনীন। এবং নৈতিক ও মহান আদর্শের। সমাজপ্রগতির সংগ্রামকে আদর্শ হিসেবে দীক্ষা নিয়েছিলেন দুরন্ত-কৈশোর থেকেই। অসীম সাহসে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এক উত্তম বিরল যুবরাজনীতিবিদ। চিরযৌবনের সারথিদের যুথবদ্ধ করে কর্মসৃজন করেছেন বিশ্ব-মানবিকতার।
জীবনের পাঠশালা ছিল তাঁর ছাত্র ইউনিয়ন। তারপর যুব ইউনিয়ন। সাম্যময় এক পৃথিবীর স্বপ্নে নিমজ্জমন তাঁর দিনরাত্রি। তিনি প্রকৃতি-পরিবেশের সপক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন সাম্য পৃথিবীর আকাংখার সাথে সুসমঞ্জস থেকেই। তিনি ছিলেন সাহসী ঝড় আর ঝড়ের খেয়া। কখনো একা হলেও দানবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এতটুকু দ্বিধা করেননি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও শোষণ-বঞ্চনামুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণের এই সমাজবিপ্লবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল গত বছর ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সেই এই সুরমা সন্তানের চলে যাওয়া।
প্রয়াত মইনুদ্দিন আহমদ জালাল’র বংশপরম্পরার নিবাস সিলেট শহরের প্রান্তিক দক্ষিণসুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর গ্রামে। হাজি ইছকন্দর আলী ও সিতারা খানমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র পুত্রসন্তান। পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে জীবিকার প্রয়োজনে তাঁর বাবা-চাচা সুনামগঞ্জ শহরে ঠাঁই নেন। সেখানেই ১৯৬৩ সনের ২৪ ডিসেম্বর মইনুদ্দিন জালাল জন্মগ্রহণ করেন। পিটিআই প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিসি হাই স্কুল শেষে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। স্কুলের ছাত্র হিসেবেই প্রগতিশীল শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৮৩ সালে একমাস সুনামগঞ্জ জেলে কারাভোগ করেন। পাঠশালা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সুনামগঞ্জ থেকেই পাশ করে এমসি কলেজ সিলেটে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সিলেট ছাত্র ইউনিয়ন’র সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ছাত্র-আন্দোলনে কাজ করতে থাকেন। এরপরে ১৯৯২ এবং ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সিলেটের পরপর দুবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন’র সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করেছেন। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন’র প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রায় ৩২টি দেশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বিশ্বের প্রায় ৬২টির মতো দেশ ভ্রমণ করেছেন।
ডব্লিউএফডিওয়াই কর্তৃক আয়োজিত ১৪তম বিশ্ব ছাত্র ও যুব উৎসব ১৯৯৭ সালে কিউবার হাভানা, ১৫তম ২০০১ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স, ১৬তম ২০০৫ সালে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস, ১৭তম ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকার প্রেটোরিয়া শহরে, ১৮তম ২০১৩ সালে ইকুয়েডর, ১৯তম ২০১৭ সালে রাশিয়ার সোচি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সবকটি উৎসবের প্রতিনিধি দলের মূল ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ব সোশাল ফোরাম পোট এলিগ্রো, ব্রাজিলে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সাথে হয়ে কাজ করেছেন। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জনগণের। ঢাকা-সিলেট তের দিনের পদযাত্রায় সিমিটার কোম্পানির লুণ্ঠন পরিকল্পনাকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিলো সেসময়কার বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। যে সংগ্রামে লীন ছিলেন সহযোদ্ধা জালাল। সমাজের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। গণআন্দোলনের মুখে সিমিটারের সাথে ভুয়া চুক্তি বাতিল হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে মামলা করে সিমিটারের হাত থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা করে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। এটা ছিল প্রথম জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন। বহুজাতিক গ্যাস কোম্পানি সিমিটার বিরোধী আন্দোলন সিলেটে তিনি যুক্ত ছিলেন। বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন ১৯৯৭ সালে মৌলভীবাজারের মাগুরছড়ায় গ্যাস পুড়িয়ে ধ্বংস করার প্রতিবাদে আন্দোলন, ২০০২-২০০৩ সালে গ্যাস রফতানী করার প্রতিবাদে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র রক্ষার আন্দোলন, ২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাস বহুজাতিক কোম্পানি কর্তৃক পোড়ানো, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ২০০৫ সালে ফুলবাড়ি কয়লা খনি থেকে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন, ২০১৩ সালে সুন্দরবন রক্ষার প্রতিবাদসহ প্রতিটি গণ ও ন্যায্য সংগ্রামে তিনি নানাভাবে সক্রিয় ছিলেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নামকরণের সেই উত্তাল সময়ে সিলেট দেখেছে অনন্য এক যুবনেতা জালালের দীপিত পথচলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৯ সালে ৮৭তম সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন হলের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাহানারা ইমামসহ অন্যান্যের নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত-শিবির নামকরণবিরোধী আন্দোলন শুরু করলে ২০০০ সালের ৬ মে ৮৯তম সিন্ডিকেট সভায় হলের নামকরণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি স্থগিতাদেশ জারি করেন। সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নামকরণ নিয়ে কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ আহুত অনশন আয়োজন করেছিলেন। মইনুদ্দিন আহমদ জালালের নেতৃত্বে যুব ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী এতে অংশগ্রহণ করেছিলো। এ অনশন আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।
বিশ্ববিদ্যায়ের বিভিন্ন হলের নামকরণবিরোধী বিশেষ মহলের আন্দোলনকে প্রতিহত করতে তিনি জীবনবাজী রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। সিলেটের সিংহবাড়ি রক্ষা, অর্পিত সম্পত্তি প্রতিরোধ আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ ছিলো সুচিহ্নিত। বরাক-সুরমা-মেঘনার টুঁটি টিপে ধরার বেনিয়া প্রকল্প টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের এতটুকু ভিত্তিপ্রস্তর আজো গড়তে পারেনি বাংলাদেশ এবং ভারতের মনিপুর অঞ্চলের গণমানুষের মিলিত সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে। আর বাংলাদেশ তথা সিলেট অঞ্চলে অঙ্গীকার বাংলাদেশের প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসাবে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধের বীরসেনানী ছিলেন উজানমাঝি মইনুদ্দিন আহমেদ জালাল। সারা পৃথিবীতে বাঁধবিরোধী সংগ্রামে এমন সাফল্য বিরল। পরিবেশ-প্রতিবেশ, প্রকৃতি ও নদী রক্ষায় তিনি নানা অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি অঙ্গীকার বাংলাদেশ সংস্থার মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের গণমানুষকে সচেতন করেছিলেন।
মইনুদ্দিন আহমদ জালাল তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ঢাকা থেকে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা ল কলেজ থেকে এলএল.বি পাশ করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত হয়ে সদস্যপদ লাভ করেন। সিলেট আইনজীবী সমিতিতে ১৯৯৪ সালের ১৯ মে যোগদান করেন। একাধারে সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতি এবং সিলেট কর আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় গণমাধ্যম সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পৃষ্টপোষকতা ও জড়িত থেকে কাজ করেছেন। সিআরপি (পক্ষঘাতগ্রস্থদের চিকিৎসা কেন্দ্র)কে সিলেটের চণ্ডিরপুলনামক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পয়ত্রিশ শতক ভূমি দান করেছেন। ইছকন্দর-সিতারা সিআরপি সিলেট শাখা হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।…’।
জীবনীসংক্ষেপ ছিল এমনই। আমরা এটা প্রকাশ করেছি প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনকালে। তখন তাঁর সংগ্রহশালায় হাত দিয়ে তো এক মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থা। প্রাণপণ একটি চেষ্টা তখন প্রকাশ পায়। বাড়ির পেছনে খোলা এক প্রান্তর, যেখনে অবসর কাটাতে, স্বস্তি বোধ করতেন জালালভাই, সেখানেই ‘জালাল অন্তর’ নামে একটি প্রান্তর করার চেষ্টা তাঁর স্ত্রী ডক্টর নাজিয়া চৌধুরীর ছিল। আমরা হিলালভাইকে নিয়ে এক বিকেল কাটালাম সেখানে। যুবসংগ্রহশালা বা জাদুঘর জাতীয় কিছু একটা করা হবে। কিন্তু করোনার এই সময় সেই ইচ্ছেপূরণে হাতটা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
করোনার যখন পিক টাইম, বেঁচে থাকলে কী করতেন জালাল ভাই? মধ্য জুনে একদিন ফোন করে জানতে চাই নাজিয়াভাবী ও কিমভাইয়ের (নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আবদুল করিম চৌধুরী) কাছে। দুজনের কাছে শোনা হলো লম্বা এক দীর্ঘশ্বাস, একই জবাব। ‘লোকটাকে তো ঘরবন্দি করে রাখা সম্ভবই হতো না। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে হয় আক্রান্ত হতেন, না হয় আক্রান্তদের সেবার পূর্ণতা ছড়িয়ে ফিরতেন।’
সত্যিই তো, দুর্যোগে-মহামারিতে তো ঘরে বসার লোক ছিলেন না জালালভাই। এই যেমন, ধর্ষণকাণ্ড কিংবা পুলিশ হেফাজতে হত্যাকাণ্ড নিয়ে চারদিক প্রতিবাদমুখর, সেই মুখরতায়ও অবিচল থাকতেন জালালভাই। ‌‌’দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ নামে একটি নির্মোহ আন্দোলন চলছে এখন। এই আন্দোলনের সংগঠক সবাই তরুণ। সবাই জালালভাইয়ের অনুরাগী। এমসি কলেজেরই শিক্ষার্থী ছিলেন জালালভাই। এই ‘দুষ্কাল’ তাড়াতে সকাল-দুপুর-রাত একাকার করে দিতেন, দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তর থেকেই বলছি এই কথা। জয়তু ‘অন্তর্জালে জালাল’।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী

  • [১]