অপ্রয়োজনীয় বাঁধ কেন?

অপ্রয়োজনীয় বাঁধ কেন? যিনি প্রকল্প তৈরি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলীর জবাব, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির অভিপ্রায় ও সিদ্ধান্ত অনুসারে এইসব প্রকল্প প্রণয়ন হয়েছে। এর বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে বলছেন, এসব প্রকল্পের অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয়তা নেই। সদর উপজেলায় চারটি হাওরে বাঁধ নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত ১৪টি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় এবং যেটি পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীও স্বীকার করেছেন, এই ১৪ প্রকল্পের অনেকগুলোরই কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। যেখানে আগের বাঁধ রয়েছে কিংবা সড়ক, সেখানেও নতুন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা নিলে বুঝা যায়, সরকারি বরাদ্দের টাকা লুপাটের জন্য এমন অহেতুক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৪২৪ বাংলা সনে শতভাগ বোরো ফসল হানির পর বাঁধ নির্মাণের সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠলে এবং অনেক রাঘব বোয়াল ঠিকাদার দুদকের জালে আটকা পড়ার পর বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জাতীয় নীতিমালা পরিবর্তিত হয়েছিল। নতুন নীতিমালার আওতায় গত বোরো মৌসুমে কাজ হয়। ধারণা করা হয়েছিল এবার বুঝি এমন দুর্নীতি কমল। তবে দৃশ্যত গত মৌসুমে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অভিযোগ না উঠলেও এমন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন রোধ করা যায়নি। সদর উপজেলাতেই অন্তত ৬টি বাঁধের বিষয়ে অভিযোগ উঠে যে, আদৌ এসব বাঁধের কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এই ৬ অপ্রয়োজনীয় বাঁধের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরপরও থেমে নেই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরির হিড়িক। এটি এক বিষ্ময়কর দুঃখজনক বাস্তবতা।
তবে আশার কথা হলো পাউবোর একটি অংশ অপ্রয়োজনীয় বাঁধের প্রকল্প তৈরি করলেও এ প্রতিষ্ঠানেরই জেলা কর্তা এইসব বাঁধের অসাড়তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেছেন, তিনি নিশ্চয়ই সরকারি অর্থের এমন শ্রাদ্ধ আটকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। প্রকল্প প্রণয়নকারী প্রকৌশলী এমন প্রকল্প তৈরির চাহিদা পেশ করার জন্য যেসব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা কমিটির উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন তাদের এখন নিজেদের অবস্থান খোলাশা করতে হবে। তারা পুরানো বাঁধের উপরে, বসতবাড়ি রয়েছে এমন জায়গায়, যেখানে সড়ক আছে তেমন স্থানে কেন নতুন বাঁধ তৈরির চাহিদা দিলেন. সে বিষয়ে উপযুক্ত জবাব না আসলে সরকারি অর্থের অপচয় প্রচেষ্টার দায় তাদেরকেও নিতে হবে। নতুৃবা নীতিমালা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাঁধ নির্মাণযজ্ঞে আমরা যে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলাম সেটি ভেস্তে গিয়ে যেই লাউ সেই কদু অবস্থা তৈরি হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সোমবারের প্রতিবেদনে শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কতিপয় অপ্রয়োজনীয় বাঁধের বিষয়টিই উঠে এসেছে। জেলার ১১ উপজেলায় এমন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের সংখ্যা কত এবং এর মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ সরকারি টাকা অপচয় ও লুটপাট করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটি ভালভাবে অনুসন্ধান করা দরকার। বাঁধ নির্মাণ ও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবৃন্দ, হাওরপাড়ের কৃষক ও সচেতন মানুষ এবং কৃষি ও কৃষক নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরকে এসব বিষয়ে দ্রুত সক্রিয় হতে হবে।