অফিসার্স ক্লাব থেকে ৪ জুয়ারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার অফিসার্স ক্লাবের মদ ও জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৩ সরকারি কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে এক মাসের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাত সাড়ে ১২ টা থেকে রাত দেড় টা পর্যন্ত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার শহরে এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল। অফিসার্স ক্লাবে কীভাবে এমন অপকর্ম চলতো, এই বিয়য়টিও জানতে কৌতুহল ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। বুধবার রাতে ভ্রম্যামাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স¤্রাট হোসেন, এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলম, সাবইন্সপেক্টর মুহিতসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন- সুনামগঞ্জ বিসিকের এক্সটেনশন অফিসার আবুল কাশেম, রানীগঞ্জ ভূমি অফিসের তহশিলদার নিখিল চন্দ্র পুরকায়স্থ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এ- কলেজের চীফ ইন্সট্রাক্টর নুরুল ইসলাম তালুকদার ও সুনামগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ডিড রাইটার শ্যামল দাস।
দ-প্রাপ্ত সুনামগঞ্জ বিসিক’এর সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে তাৎক্ষণিক জুয়া খেলার কথা স্বীকার করে বলেন, এর আগেও তিনি এখানে জুয়া খেলতে এসেছেন। বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়া চারজন ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা
তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
দ-প্রাপ্ত নিখিল পুরকায়স্থ ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি বুধবারই প্রথম অফিসার্স ক্লাবে এসেছেন। তার পরিচিত একজন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা’র সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এ- কলেজের চীফ ইনস্ট্রাক্টর নুরুল ইসলাম তালুকদার অনেক আগেই এখান থেকে বদলি হয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারককে তিনি ওই সময় বলেছেন, তিনি এই ক্লাবের জীবন সদস্য। তিনি হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি কাজে সুনামগঞ্জে এসেছিলেন। জুয়া খেলার কথা তিনিও স্বীকার করেন।
ডিড রাইটার শ্যামল দাস তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি এই অফিসার্স ক্লাবের সদস্য নন। তিনি এখানে মাঝে মাঝে এসে জুয়া খেলেন।
অফিসার্স ক্লাবের কেয়াটেকার আমির হোসেন জানান, প্রায় প্রতিদিনই এখানে জুয়া খেলা হয়। কয়েকজন কলেজ সদস্যও এখানে জুয়া খেলেন। আগে দিনেও খেলা হতো। জেলা প্রশাসক মহোদয় ক্লাবের সময়সীমা বিকাল ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত করার পর এরা রাতে আসেন। বুধবার এরা রাতে খেলতে বসেছিলেন।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, এ ঘটনায় যারা সাজা পেয়েছেন তারা যেমন দায়ী, তেমনি এই ক্লাব পরিচালনায় যুক্তরাও দায় এড়াতে পারেন না। অফিসার্স ক্লাবে কর্মকর্তারা যাবেন এটাই স্বাভাবিক, তবে সেখানে বেআইনি কোন কাজ হয় কী না, কেউ করে কী না, সেটা দেখার দায়িত্ব যারা ক্লাব পরিচালনা করেন তাদের।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বহুদিন থেকেই খবর পাচ্ছিলাম এখানে দিনে এবং রাতে কেউ কেউ জুয়া ও মদের আসর বসান। সারাদেশে ক্যাসিনো কা-ের খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশ দেন অফিসার্স ক্লাব বিকাল ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। কিন্তু অফিসার্স ক্লাবে নিয়মিত আসা কিছু লোকজন এই আদেশ অমান্য করেই গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করে জুয়া ও মদের আসর বসান বলে খবর পাওয়া যায়। এরমধ্যে অফিসার্স ক্লাবের সদস্য নন এমন লোকজনও রয়েছেন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে রাত সোয়া ১২ টায় ওখানে পুলিশসহ অভিযান চালানো হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চলে। অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত জুয়ার বোর্ড হতে ৪১০০ (চার হাজার একশ) টাকাসহ নগদ ৩০,০৭২ (ত্রিশ হাজার বাহাত্তর) টাকা, বিভিন্ন ব্রা-ের সিগারেট, শরীর উত্তেজক পানিয়ের বোতলসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে চার জনকেই এক মাস করে কারাদ- প্রদান করা হয়।’