অবশ্যই সড়ককে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে

দেশে নিবন্ধিত যানবাহন সংখ্যা ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০ টি। এসব যানবাহনের বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের সংখ্যা ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৬ জন। এই তথ্যটি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরপর্বে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। এই তথ্য থেকে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে সেটি হল, নিবন্ধিত যানবাহনের অর্ধেক সংখ্যক চালকেরই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অর্থাৎ দেশের অর্ধেক যানবাহন চালনা করছেন অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন চালকরা। এটি নিবন্ধিত যানবাহনের বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের হিসাব। কিন্তু আমরা সকলেই জানি, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সাথে অনিবন্ধিত যানবাহনও প্রচুর রয়েছে। এই সুনামগঞ্জেই খোদ বিআরটিএ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, জেলার অর্ধেকের বেশি লেগুনার কোন লাইসেন্স নেই। অনিবন্ধিত যানবাহনকে হিসাবে নিলে অবৈধ চালকের সংখ্যা কত দাঁড়াবে সেটি অনুমেয়। এইরকম একটি তথ্য একটি দেশের সড়ক পরিবহন চিত্রের জন্য কতটা ভয়াবহ রকমের সেটি চিন্তা করলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। কিন্তু নির্বিকার এই দেশটির মানুষ এখন আর কোন ধরনের বিপজ্জনক তথ্যেই আঁতকে উঠে না। বরং অনিয়মকে নিয়ম মনে করেই এই দেশের মানুষ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠার চেষ্টা করছে। মন্ত্রী যখন অর্ধেকের বেশি যানবাহনের অবৈধ চালকের তথ্য উপস্থাপন করলেন, তখন কিন্তু তাঁর উপরই দায়িত্ব বর্তায় এই জায়গায় শৃঙ্খলা আনার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, সড়ক সেক্টরে কোনকিছুকেই মূলত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে শুধু মাত্র সড়ক ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার কারণে দেশের রেল ও নৌপথকে প্রচ- অবহেলার মধ্যে রেখে সারা দেশে যেমন জালের মত শুধুমাত্র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে তাতে যে কেবল দুর্ঘটনার পরিমাণই বাড়ছে তা নয়, এছাড়াও মানুষের পরিবহন ব্যয় বাড়া, কৃষি জমি সংকুচিত হয়ে পড়া, পানির অবাধ প্রবাহ আটকে পড়া ইত্যাদির মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলোও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু যোগাযোগ দর্শনে জনগণের স্বার্থ রক্ষার তাগিদ থেকে রেল ও নৌপথ সম্প্রসারণকে মোটেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।
এরকমই এক লাইসেন্সবিহীন লেগুনা চালকের কারণে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক আজ স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা হারিয়েছেন। তিনি কতোটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন সেই চিন্তায় হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তিনি কেবলই চোখে অন্ধকার দেখছেন। এ তো এক সম্পাদকের কথা মাত্র। কিন্তু প্রতিনিয়ত যারা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছে, সেইসব অন্তহীন দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? একটি রাষ্ট্রের সড়ককে কিছু দুর্বিনীত যানবাহন চালকের হত্যার লীলাক্ষেত্রে পরিণত করা সীমাহীন নাগরিক কষ্টের কারণ বটে। আমরা এই ধরনের মৃত্যুর কিংবা পঙ্গুত্ববরণের সড়ক চাই না। এজন্য অবশ্যই সড়ককে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। অবৈধ যান ও চালকের হাত থেকে নিস্তার দিতে হবে সাধারণ যাত্রীদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী যখন প্রশিক্ষিত ড্রাইভারের অপ্রতুলতার কারণ হিসাবে নানা বিষয়ের অবতারণা করেন, তখন আমাদের এক এবং একমাত্র বক্তব্য হলো, সড়কে একটিও গাড়ি না চলুক আপত্তি নেই, কিন্তু যেন কোন অবৈধ যান বা চালক রাস্তায় না নামতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এই আর্তি কি কর্ণধারদের কানে পৌঁছবে?