অবৈধ যানবাহনের চাপে প্রতিটি সড়ক মহাবিপন্ন

এত এত টাকা খরচ করে সড়ক বানানো হয় আর অবৈধ ট্রলি চালিয়ে সেই সড়ক নষ্ট করে ফেলা হোক, তা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়ার মতো নয়। অথচ এরকম এক সড়কঘাতী অবস্থাই বিরাজমান প্রায় প্রতিটি সড়কে। গত শনিবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাকা সড়ক এসব ট্রলি চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুত ওই তিন ইউনিয়ন নয়, সারা জেলার প্রায় সকল সড়কেই এসব অবৈধ ট্রলি সড়ক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ট্রলি চলাচলের কোন আইনগত ভিত্তি নেই। সড়কে এমন অবৈধ ট্রলি চলাচল করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু তৎসত্বেও বেপরোয়া দানবের মতো মূর্তিমান আতংক হয়ে ট্রলি বা তদনুরূপ অবৈধ যানবাহনের চাপে আমাদের প্রতিটি সড়ক আজ মহাবিপন্ন। এমন অবৈধতাকে আটকানোর সাধ্য যেন কারও নেই। গ্রামীণ সড়কে এসব অবৈধ যানবাহন আটকানোর নৈতিক দায়িত্ব ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদগুলোর উপর বর্তায়। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অকপটে অবৈধ যানবাহনের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন, তারা এগুলো বন্ধ হোক তাও চান। কিন্তু যখনই তাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলা হয় তখনই তারা অপরাগতা প্রদর্শন করেন। তারা তখন এমন অবৈধ যানবাহন আটকানোর জন্য প্রশাসনের উপর দায় চাপিয়ে নিজেরা নিরাপদ অবস্থানে থাকতে চান। এর পিছনে ভোটের রাজনীতিটি স্পষ্ট। যেসব ট্রলি, হিউম্যান হলার, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা বা রিক্সা চলাচল করে সেগুলোর মালিক-চালকরা এলাকার ভোটার। ভোট নষ্ট হবে ভেবে জনপ্রতিনিধিরা এই সড়ক বিধ্বংসী উপাদানকে সড়ক থেকে অপসারণে কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেন না। বরং তাঁদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন পেয়ে এসব যানবাহন দুর্দ- প্রতাপে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এলজিইডির তথ্য অনুসারে কোন রাস্তা নির্মাণ/সংস্কার হওয়ার পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে ওই রাস্তার জন্য আর কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না। ঠিকাদাররা কাজে ব্যাপকভাবে অনিয়ম করেন। এতে যে সড়ক পাঁচ বছর ভাল থাকার কথা সেই সড়ক দুই বছরের আয়ুষ্কাল নিয়ে নির্মাণ/সংস্কার কাজ শেষ হয়। এই যে বছর দুয়েক চলার কথা তাও সম্ভব হয় না অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে। সুতরাং সড়ককে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হলে যেকোন মূল্যে অবৈধ যান চলাচল অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। বিআরটিএ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদেরই সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে কারও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
অবৈধ যানবাহন যে কেবল সড়কের ক্ষতি করছে তা নয়। এগুলো দুর্ঘটনার কারণও হচ্ছে। এসব যানবাহনের কারণে সড়কে যানজট তৈরি হয়। সম্প্রতি বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ বাজার সন্নিকটবর্তী পুলেরমুখের বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে ট্রাক পড়ে যে দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে তার পশ্চাতেও একটি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা দায়ী বলে তথ্য পাওয়া যায়। ওই অটোরিক্সাটি সেতুর উপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ট্রাকটিকেও সেতুর উপর অবস্থান নিতে হয়। লোড করা স্থির ট্রাকের ওজন সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না সেতুটির। তাই ভেঙে পড়ে দুই ব্যক্তির প্রাণ নাশের কারণ হয়েছে। অভিজ্ঞরা বলছেন, ট্রাকটি না থেমে সেতু অতিক্রম করলে হয়তো দুর্ঘটনাটি নাও হতে পারত।
সড়কের জন্য বহুমুখী ক্ষতির কারণ যে অবৈধ যান সেগুলো আটকানোর দায়িত্ব যাদের উপর তাদের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্বিকার মনোভাব ত্যাগ করে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। আমরা চাই না জনগণের করের টাকায় নির্মিত কোন সড়ক অনাহুত কোন কারণে আয়ুষ্কাল হারাক কিংবা দুর্ঘটনার কারণ হোক।