অবৈধ যানে সড়ক হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ যান চলাচলের কারণে সড়কের বিনাশ ঘটেছে। একই সাথে যানজটসহ নানা দুর্ঘটনায় আহত নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে চলেছে । এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি জানান, বালু-পাথর এবং রড, সিমেন্ট, ইট ইত্যাদি অবৈধ ট্রলি ও পিকআপ ভর্তি করে এই সড়কে দ্রুতগতিতে চলাচল করে থাকে। এই কারণে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের মেইন সড়ক ও গ্রামীণ সড়কের অবস্থা বেহাল হয়েছে। মেইন সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় টেকসই উন্নয়ন না হওয়ায় সহজে মালবাহী গাড়ির চাপে সড়ক ভেঙে যায়। মেইন সড়ক বা রাস্তা মেরামতের মাসখানেক পর আবারও ভেঙে গিয়ে সারা বছর মানুষ ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে মইনপুর, হালুয়াঘাট ও মঙ্গলকাটা বাজার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে আসছে। অবৈধ ট্রলি ও পিকআপ এবং বেপরোয়া মটরবাইক চলাচলের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। অনেকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। কোনো কোনো আহত ব্যক্তি সারা জীবনের পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আবার কোনো কোনো আহত ব্যক্তি কিছুদিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কিন্তু এসব দুর্ঘটনার পরও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। মেইন সড়ক বা গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটে মানুষ চলাচলে এখন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মইনপুর, হালুয়ারঘাট, বেরীগাঁও, কৃষ্ণনগর, মঙ্গলকাটা, জাহাঙ্গীরনগর, মীরেরচর, আমপারা, সৈয়দপুর, ইব্রাহীমপুর, চৌমুহনী, কাইয়ারগাঁও, ডলুরা, ইসলামপুর, রংপুর, হাসাউড়া প্রভৃতি এলাকায় অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে নানা দুর্ঘটনায় মানুষ পঙ্গু হয়েছেন এবং অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, আমাদের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মেইন সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা বিনাশ হয়েছে মালবাহী অবৈধ ট্রলি চলাচলের কারণে। এসব অবৈধ যানবাহন অবিলম্বে বন্ধের দাবি আমাদের।
নুর মোহাম্মদ বলেন, মঙ্গলকাটা, হালুয়ারঘাট, চৌমুহনী, হাসাউড়া সড়কে অবৈধ যানবাহনের পাশাপাশি বেপরোয়া মটরবাইক চলাচলেও সড়কে চলাচলকারী মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন। মানুষ চলাচলে নিরাপদ সড়কের দাবি আমাদের।
ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ট্রলি ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহন চলাচলে সড়কের অবস্থা বেহাল হয়েছে। এই সড়কগুলোতে আবার বেপরোয়া মটরবাইক চলাচল করে। প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, মঙ্গলকাটা এলাকার আশপাশের মেইন সড়কে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও চলাচলে মারাত্মক আতঙ্কে থাকেন। সড়কে চলাচল নিরাপদ নয়। এই অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। দুর্ঘটনা থামানো এখনই প্রয়োজন।
সমাজকর্মী আবুল হায়াত বলেন, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা উচিৎ। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
ফেনিবিল সমাজকল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি শাহ আলম বলেন, সড়কে চলাচলকারী অবৈধ যানবাহন বন্ধ করার জন্য আমরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একাধিক বার আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সড়কে চলাচলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দাবি আমাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শামীম আহমদ বলেন, সুরমা উত্তরপাড়ের তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বেড়েই চলেছে। ভাঙা সড়কে মেরামত কাজ এমনিতেই টেকসই হয় না। এই সড়কে আবার চলে মালবাহী ট্রলি, পিকআপ ও অন্যান্য মালবাহী গাড়ি। এই কারণে সড়কের অবস্থা বেহাল হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি আমাদের।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ যানবাহনে ভরে গেছে এলাকার সড়ক ও রাস্তা-ঘাট। মালবাহী অবৈধ যানবাহনের কারণে সড়ক ও চলাচলকারী মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যানবাহনের শব্দে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। রাতের বেলায় স্বাচ্ছন্দ্ব্যে ঘুমানো যায় না। এসব যানবাহন বন্ধের দাবি আমাদের।
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব বলেন, নিরাপদ সড়ক না হলে আরও দুর্ঘটনা বাড়বে। কারণ অবৈধ যানবাহন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এসব সড়কে মানুষের চলাচলে ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো মুকশেদ আলী বলেন, সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন চলাচল করছে, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের ক্ষতি করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এই সমস্যার সমাধান জরুরি প্রয়োজন।