অব্যবস্থাপনা ছিল, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে ছাত্ররা: নাসিম

সু.খবর ডেস্ক
পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা চলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বলেছেন, ছাত্ররা তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন নাসিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্ররা চারদিন ধরে রোদে বৃষ্টিতে যে প্রতিবাদ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কোথায় অব্যবস্থাপনা অছে কোথায় আমাদের দুর্বলতা আছে। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।’
‘আমাদের স্বীকার করতে লজ্জা নাই দ্বিধা নাই। আমাদের সরকারের আমলে কিছু কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল, আর এটা দীর্ঘদিনে।’
আন্দোলনে ছাত্রদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলেও মনে করেন মন্ত্রী। আহ্বান জানিয়েছেন ঘরে ফেরার। বলেছেন, এখন যদি ঘরে না ফেরে তবে আন্দোলন লক্ষ্যচ্যুত হবে।
গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আর বুধবার থেকে ব্যাপকভাবে যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষায় মন্ত্রী, বিজিবি, পুলিশ, ওয়াসার গাড়ির চালকের লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি প্রকাশ হয়। এমনকি ‍নৌ পুলিশের ডিআইজির গাড়িতে কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সরকার ছাড়াও বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের পরিবারের পক্ষ থেকেও ছাত্রদের উঠে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আজ শুক্রবারও তারা রাস্তায় নেমেছে।
আন্দোলনের তিন শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও বেশ কিছু গাড়িতে আগুন দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন মালিকরা। বাজারে জিনিসপত্রের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও গেছে বেড়ে।
এর মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটানো চালক ও সেই বাসের মালিক গ্রেপ্তার হয়েছেন, সড়ক পরিবহন আইন সংসদের আগামী অধিবেশনে পাসের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানাচ্ছে সেগুলোও মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
নাসিম বলেন, ‘এটা মনে রাখতে হবে যখন লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যায় তখন ক্ষ্যান্ত দিতে হয় না হলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
‘যে লক্ষ্যে চার দিন ধরে কিশোররা আন্দোলন করেছে, এ দেশের মানুষ সার্বিকভাবে সমর্থন করেছে। এখন লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পরে আর কোনোভাবেই রাস্তায় থাকার কোনো অর্থ হয় না।’
‘আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই যেন এখন ঘরে ফিরে যায় ক্লাসে ফিরে যায় এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করব আমরা, নিহত পরিবারে পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা যেন ঘরে ফিরে যায়।’
নাসিম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে চৌদ্দ দল হত্যাকাণ্ড মনে করে এবং এর দ্রুত বিচারের বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
‘দীর্ঘদিনের এই সড়ক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে অব্যস্থাপনার বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিবাদ করেছে তা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত।এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত আমি মনে করি এর বিচার হওয়া উচিত।’
‘পদত্যাগ সমাধান নয়’
ছাত্ররা পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগ না চাইলেও সামাজিক মাধ্যমে তার পদত্যাগের দবি উঠেছে।
তবে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ সমস্যার সমাধান আনবে না বলে মনে করেন নাসিম। বলেন, ‘নয় দফার মধ্যে একটি একটি দাবি ছিল নৌমন্ত্রীর ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন। এখন আমার কাছে মনে হয় এটা রাজনৈতিক দাবি উঠেছে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য এটা ছিল না। কারণ পদত্যাগ এর মাধ্যমে এর সমাধান হবে না। আইন করে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’
‘শ্রমিক ফেডারেশন জিম্মি করেছে’
শ্রমিক ফেডারেশন নিজেদের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে মানুষকে জিম্মি করেছে বলেও মন্তব্য করেন নাসিম। বলেন, ‘এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। এখানে ডান বাম কিছু নেই। দল মত নির্বিশেষে একই স্বার্থে তারা কাজ করে। যারা যারা কথা বলছে তারা অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত।’
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, জাসদ একাংশের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, কামরুল আহসান খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, গণ আজাদী লীগের এস কে শিকদার, বিএমএ মহাসচিব মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
সূত্র : ঢাকাটাইমস