অভ্যন্তরীণ রাস্তার বেহাল দশা

গোলাম সরোয়ার লিটন, তাহিরপুর
বর্ষার ছয় মাস চারপাশে হাওরের জল। এর মধ্যে জেগে থাকা ভূমিতে গড়ে ওঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ। উপজেলা সদরের প্রবেশ পথ, সদর বাজার ও উপজেলা সদরের আশেপাশের গ্রামে যাতায়াতে অভ্যন্তরীণ রাস্তার পরিমাণ সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার। কিন্তু গত তিন বছর ধরেই অভ্যন্তরীণ এই তিন কিলোমিটার রাস্তা ভাঙ্গাচোরা। এই রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর। বৃষ্টি হলে পানি আর ময়লা মিশে একাকার হয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদের সামনে ও আশোপাশের এ রাস্তাগুলোর অবস্থা এমন বেহাল হলেও এখন পর্যন্ত পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা হচ্ছে না। তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দারা ছাড়াও পার্শ¦বর্তী ধর্মপাশা উপজেলার লোকজনও জেলা সদরে যাতায়াতে এ সকল রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া হাওরাঞ্চল বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক এবং দেশের বৃহত্তম জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান দেখতে আসা পর্যটকদের এই রাস্তার কারণে কষ্ট পেতে হয়।
তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, হাওরবাসীর স্বপ্নের সড়ক সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কটি চালু হওয়া এবং সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের কারণে হঠাৎ করে অভ্যন্তরীণ সড়কের ওপর ব্যাপকভাবে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য এই অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু সহনীয় মাত্রার চেয়েও অধিক পরিমাণ মাল বোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে অভ্যন্তরীণ এই সড়ক সহজেই ভেঙ্গে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় লোকজন ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ থেকে পরিষদের পুকুরের পূর্বপাড় হয়ে তাহিরপুর সদর বাজারের উপর দিয়ে পশ্চিমপ্রান্তে টিএন্ডটি পয়েন্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ আধা কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়ে আছে এই সড়কটি। বৃষ্টির পানি আর ময়লা মিশে তাহিরপুর সদর বাজারের একমাত্র এই সড়কটি ময়লাবহী ড্রেন হয়ে ওঠেছে। একইভাবে উপজেলা পরিষদ থেকে পশ্চিম দিকে শনির হাওরের পাড়ে গড়ে ওঠা গ্রামের পাশ দিয়ে স্থাপিত দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক। এই দুই কিলোমিটার সড়কের এক কিলোমিটার পথের মধ্যে পড়েছে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। উচ্চ বিদ্যালয়ের পর বাকী এক কিলোমিটার সড়ক। কিন্তু এটুকু পথও যান চলাচল দূরে থাক স্বাভাবিকভাবে হেঁটেও চলা যায় না। আবার এই সড়কটির টিএন্ডটির পর থেকে ভাটি তাহিরপুর কালী মন্দির পর্যন্ত ১৫০ গজ রাস্তা হাওরের দিকে ঢালু হওয়ায় হেঁটে চলাচল কালেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। উপজেলা পরিষদের পুকরপাড় থেকে পূর্বদিকে রায়পাড়া রমেশ বর্মণের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা। এই রাস্তাটিও সংস্কার ও মেরামতের অভাবে একইরকম ভাঙ্গাচোরা।
তাহিরপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, তাহিরপুর বাজার ও আশপাশের ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারণে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই চরম দুর্ভোগে আছি। যানবাহনের চাকার সাথে ওঠে আসা ময়লা পানিতে সবই একাকার হয়ে যায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই তাহিরপুর বাজারের রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।
টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের কৃতী সন্তান (উপসচিব) বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক প্রিয়সিন্ধু তালুকদার জানান, তাহিরপুর উপজেলা সদরে প্রথমবার এসেছেন এমন কেউ অবকাঠামোর দিক নিয়ে ভাবার বা হতাশা প্রকাশের সুযোগ পান না। সবাই অপার বিস্ময় নিয়ে দেখতে থাকেন হাওরের রূপ আর সৌন্দর্য্য। বছরের ছয়মাস এখানকার মাঠঘাট সবই পানিতে ডুবে থাকে। আর হেমন্তে সব শুকিয়ে যায়। তখন জমিতে সেচ দেওয়ার জন্যও পানি থাকে না এক ফোঁটা। হাওর, নদী, পাহাড় ও দেশের বৃহৎ জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান দেখতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক প্রতিদিন ছুটে আসেন তাহিরপুর উপজেলা সদর। বিগত ১০ বছরে হাওরাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলা সদরের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা দেখলে লোকজনের মনে ভুল বার্তা দিতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল আলম বলেন, গত ৫ বছর আগে নির্মিত এই সড়কগুলো আরসিসি সড়ক। আব্দুজ জহুর সেতু চালু হওয়ার পর থেকে অধিকমালবাহী ট্রাকও তাহিরপুর বাজারে প্রবেশ করে। অন্যান্য যানবাহনের চাপও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এত ভার বহনের সক্ষমতা এই সড়কের নেই। এ কারণেই দ্রুত ভেঙ্গে পড়েছে এ রাস্তাগুলো।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, টিএন্ডটি থেকে পশ্চিম দিকের দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ৩৮ লাখ টাকার কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। বাকী রাস্তাটুকুও মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।