অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, যানবাহনে যেতে ভয় পাচ্ছেন যাত্রীরা

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বেশি খারাপ অবস্থা সুনামগঞ্জ-বিশ^ম্ভরপুর-তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ-সাচনা এবং দিরাই-শাল্লার যোগাযোগ সড়কের। সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী পাড় হলেই চোখে পড়বে সড়ক যন্ত্রণার ভয়াবহতা। আব্দুজ জহুর সেতুর মুখ থেকে চালবন্দ পয়েন্ট পর্যন্ত চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার দীগেন্দ্র বর্মণ সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. মসিউর রহমান বললেন, সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি বিশ^ম্ভরপুর সড়ক দিয়ে দুই উপজেলা ও এক থানার মানুষ চলাচল করে। তাই এ রাস্তাটি অধিকতর জনগুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুতই সড়কে কাজ করা দরকার।
সড়কে অস্বস্তির কথা জানিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশেন্দু রঞ্জন গোস্বামী বলেন, ‘সাচনা-সুনামগঞ্জ যোগাযোগের অন্যতম রাস্তাটির অবস্থা শোচনীয়। এ সড়ক দিয়ে রোগী নেওয়া দূরের কথা, ভালো মানুষ গেলেই রোগী হয়ে যায়। দ্বিগুণ সময় ক্ষেপণের সাথে সাথে কষ্ট তো আছেই। যত দ্রুতসম্ভব এই সড়কে কাজ করা দরকার।’
সুনামগঞ্জের বেশক’টি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গেল চার দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এসব সড়কের। জেলা শহরের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-মধ্যনগর, সাচনা-সুনামগঞ্জ ও দিরাই-শাল্লার সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা সদরের সংযোগ সড়কে খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের অধিকাংশ সড়কের মূল অংশ ভেঙে বের হয়ে এসেছে মাটি। দিরাই-শাল্লার সড়কে আছে ভয়ংকর ভাঙন। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনার পাশাপাশি এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আবার ভাঙাচুরা রাস্তায় কেউ জরুরী রোগী নিয়ে শহরে ছুটতে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। চলাচলে অতীষ্ঠ চালক-যাত্রী উভয়েই।
আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হতে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগরমুখী সড়কের চালবন্দ পয়েন্ট পর্যন্ত অংশের নাজুক অবস্থা।
দিরাই-শাল্লা সড়কের অবস্থাও বেহাল পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যাতায়াতের ভোগান্তি কবে দূর হবে সেই প্রশ্ন রেখে শাল্লা আটগাঁও ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মসিউর রহমান বললেন, শাল্লা থেকে আনন্দপুর পর্যন্ত নামমাত্র আবুরা সড়ক। এরপর থেকে দিরাই পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা একেবারে করুণ। এ সড়কে ১৫-২০ কিলোমিটার জায়গা আছে যেখানে চলাচল করতে আসা-যাওয়ায় ৪০০ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোন যানবাহন নেই সেখানে। জরুরী রোগী হলে তিন চাকার মালবাহী গাড়িতে শুয়াইয়া তারপর শহরে নিতে হয়।
দিরাইয়ের তাড়ল ইউনিয়নের ডাইয়ারগাঁও গ্রামের অজয় পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, দিরাই থেকে তাদের বাড়ি যেতে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আর শাল্লা যাওয়ার রাস্তা আরও বেশি ভয়ংকর। এই রাস্তায় মানুষ গাড়িতে চলতে চায় না। কারণ গাড়ি করে গেলে কোমর ও মাজায় প্রচ- ব্যথা হয়। তাই কষ্ট করে হলেও মানুষ হেঁটেই বাড়ি যায়। এসব সড়ক জরুরী নির্মাণের দাবি তার।
মোটর শ্রমিক লীগের সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ও মোটরসাইকেল চালক মো. শামসুল হুদা চৌধুরী রেলিম বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। ওই রাস্তায় চলতে গিয়ে চালক ও যাত্রী সবারই মারাত্বক কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটছে। কেউ গর্ভবতী মহিলা নিয়া শহরে যেতে চাইলে রাস্তায়ই বারোটা বেজে যায়।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, আপাতত যান চলাচলের উপযোগী করতে সুনামগঞ্জ-সাচনা ও বিশ্বম্ভরপুর সড়কসহ অন্যান্য খারাপ অংশগুলোর টেন্ডার হয়েছে। এছাড়া ওই সড়কে আমরা বড় ইষ্টিমেটও দিয়েছি, এটা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং টেন্ডারকৃত কাজ অচিরেই শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ-২ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানিয়েছেন, ব্রিজের পশ্চিম পার থেকে চালবন্দ হয়ে তাহিরপুর পর্যন্ত এবং অপর প্রান্তের গৌরারং হয়ে সাচনা বাজার পর্যন্ত সড়কটির ব্যাপারে জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বৈঠক করে একটা প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দ্রুত সংস্কারের জন্য সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রী ও সচিব বরাবরে ডিও লেটার দিয়ে এসেছেন। এখানে দুইটা কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে, একটা স্থায়ীভাবে সড়ক পুনঃসংস্কার এবং আরেকটা ইমার্জেন্সি মেইনটেনেন্সের জন্য।