অর্থনীতির ৩০% কালো টাকা

স্টাফ রিপোর্টার
ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৩০% কালো টাকা আছে। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ বলেন, কালো টাকা উন্নয়নের কাজে লাগলে সমস্যা কি? বড় সমস্যা হচ্ছে, মেহনতি মানুষের কারণে যে বিপুল সম্পদ অর্জিত হচ্ছে, সেই টাকার বড় অংশ বাইরে চলে যাচ্ছে। সেগুলোর বড় আলামত ক্যাসিনো স¤্রাটের কা- তো আমাদের চোখের সামনে দেখছি। সবাই আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত। দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে যে সম্পদ তৈরি করছে ক্যাসিনো স¤্রাটরা জুয়া খেলে, মদে বা মাদকে তা ব্যয় করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি দরকার। বিকল্প শক্তি যদি বিএনপি-জামাত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কি উপকার হবে? তারা তো শাসনে ছিল। আমরা দেখেছি, তারা বাংলাদেশকে একটা ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। এখন আছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ। আমরা যারা ছিলাম বহু বছর ধরে তারাই আছি। আমাদের দলের কোন বিস্তার নাই। নতুন কেউ যোগ হয় নাই। দলে নতুন রক্ত দরকার। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে সেই গুরুদায়িত্বটি নিতে হবে। সেই জন্য গা ঝাড়া দিতে হবে। দিন আসবে, বিকল্প রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। পাকিস্তানীরা বহু বছর বাংলাদেশকে কোনো দেশই মনে করেনি। মনে করেছে এটা ভারতের একটা ষড়যন্ত্র। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানীরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা জাতির জনককে হত্যা করেছে। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশ তারপরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন অপার সম্ভাবনার দেশে পরিণত হয়েছে। এটা আজ সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত। আজকে পাকিস্তানের মানুষজনও বলছে, তারা এখন তুলনা করে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানকে। ইমরান খান পার্লামেন্টে বলেছিলেন পাকিস্তানকে সুইজারল্যান্ড বানাবেন। তখন সেই পার্লামেন্টের সদস্যরাই বলেছেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুইজারল্যান্ড বানানোর দরকার নাই, আপনি আগামী ১০ বছরে যদি বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানকে বানাতে পারেন সেটাই একটা বিশাল কাজ হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ধান উৎপাদনের খরচ কৃষক তুলতে পারেন না। যখন আমাদের দেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি ছিল তখন আমাদের দেশে খাদ্যের অভাব ছিল। খাদ্য-শস্য বাইরে থেকে আনতে হতো। কিন্তু এখন আমরা খাদ্যশস্যে উদ্বৃত দেশে পরিণত হয়েছি। এটা সম্ভব করেছে বাংলাদেশের কৃষকরা। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও। ধানের নতুন নতুন জাত আবিস্কার করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্লো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্যা সহনশীল ধান’ গবেষণায় আমি নিজেও যুক্ত ছিলাম। গবেষণায় আমরা সাফল্য লাভ করেছি। বন্যা সহনশীল ধান আবিস্কৃত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারে জেলা জাসদের কর্মীসভায় এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
জাসদ সহ সভাপতি এ.কে.এম ওহীদুল ইসলাম কবির’র সভাপতিত্বে ও অ্যাড. রুহুল তুহিনের পরিচালনায় কর্মীসভায় কেন্দ্রীয় জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী বলেন, যারা দুর্নীতির সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা শেখ হাসিনার আশেপাশে আছেন, যাদের নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে, উনারাও দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত। এদেরকেও ধরতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান থামিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটাকে চালু রাখার দাবিতে সভা, সমাবেশ, মিছিল করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি, আমরা সংগ্রাম করেছি, আমরা জেল খেটেছি, আমাদের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছে, সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছে আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাকর্মীকে হৃষ্টপুষ্প করার জন্য না। আমরা বাংলাদেশকে সুন্দর দেখতে চাই। আমরা একটা সোনার বাংলা দেখতে চাই।
কর্মী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সম্পাদক নাদের চৌধুরী, লোকমান আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মো. আনোয়ারোল হক, জেলা সিপিবি’র সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা জাসদ নেতা বিপ্লব কুমার দেব বিদ্যুৎ, অ্যাড. নূর হোসেন, শাহিন হোসেন।