অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্বেও সংস্কারহীন তিন সড়ক

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক সংস্কারের অভাবে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এ সব সড়কে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও সংস্কার না হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনসাধারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ এলজিইডির কর্তা-ঠিকাদারদের অনিয়ম, দুর্নীতি আর দায়িত্বহীনতার কারণে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উপজেলার লাখো মানুষ।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। জগন্নাথপুরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তুু সংস্কার কাজ হচ্ছে না। দ্রুত ওই সব সড়ক সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য আহবান জানান।
জগন্নাথপুরের এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় শহরের সঙ্গে উপজেলাবাসীর যোগাযোগের একমাত্র সড়ক জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুরা এন্টারপ্রাইজ। ২০১৭ সালে মার্চ মাসের দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও সামান্য কিছু কাজ করে তারা কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে জগন্নাথপুরে তৎকালিন প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে কাজ করা হয়। নির্মাণ কাজের তিন মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই সময় কাজের মান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই সব ভাঙা স্থানে ইট ও সুড়কি দিয়ে কোনভাবে ভরাট করা হলেও সাম্প্রতিকালে বৃষ্টিপাতে সড়কের পৌরশহরের হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সড়কের পিচ উঠে পুকুরের ন্যায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মীরপুর বাজারস্থ মেঘারকালি নামক স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ওই সব স্থানে প্রায়ই মালবাহী ট্রাক, ভারী যানবাহন আটকে থাকে। অভিযোগ রয়েছে সংস্কারের নামে নামমাত্র কাজ করে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
ভবেরবাজর-নয়াবন্দর-গোয়ালাবাজার সড়কের ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ বছর ধরে সংস্কারহীন থাকার পর ২০১৫ সালে চার কোটি ২০ লাখ টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজ পান সজিব রঞ্জন দাশ এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের ১৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সামান্য কিছু অংশে কাজ শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় কাজ। কাজ বন্ধ করায় ওই বছরের অক্টোবর মাসে এলজিইডি চুক্তি বাতিলের চিঠি দিলে ঠিকাদার ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ডে শরণাপন্ন হয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রিট পিটিশন দায়ের করেন। এরপর থেকে আইনী জটিলনায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে সাম্প্রতিককালের বন্যায় ভাঙা-চুরা সড়কটি ভেঙে ভেঙে এখন অচল হয়ে পড়েছে। গত মাসে উচ্চ আদালতে মামলাটি খারিজ হয়েছে। স্থানীয় এলজিইডি জানিয়েছে আগামী মাসে এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। জগন্নাথপুরবাসীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শিবগঞ্জ-বেগমপুর রাস্তায় গত ৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এ সড়কেও এবারের বন্যার ভাঙনে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে। গত তিন বছর পূর্বে ওই সড়কের ১২ কিলোমিটার সংস্কার কাজের জন্য ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হলে কাজ পায় লৌহজং নাসিম সুয়েব জে.বি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সড়কের কিছু অংশে কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর আর কাজ হয়নি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একেএম মুহিম জানিয়েছেন, ওই সড়কে দুই কিলোমিটার পাকাকরণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ সপ্তাহে থেকে এই সড়কের ঘোষগাঁও এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু মিয়া বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে জগন্নাথপুরের প্রায় সবক’টি সড়কে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে। অবিলম্বে সড়কগুলো সংস্কার করে জনসাধারণের কষ্ট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান তিনি।
জগন্নাথপুরের এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হবে। শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের একাংশে কাজ শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহে। ভবেরবাজর-নয়াবন্দর-কাঠালখাইড় সড়কের সংস্কার কাজে সৃষ্ট আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসে কাজ শুরু হবে।