অস্থানীয়দের নিয়োগের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে

জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৩ জনের মধ্যে অস্থানীয় হিসাবে চিহ্নিত বা অভিযোগকৃত ১০ জনের কর্মস্থলে যোগদান কর্তৃপক্ষ স্থগিত রেখেছেন বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদেরকে নতুন করে নাগরিক সনদপত্র দাখিল করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্দেশ দিয়েছেন। অস্থানীয়দের নিয়োগের বিষয়ে এবার জগন্নাথপুর উপজেলার ভিতর থেকে প্রবল আপত্তি উঠেছে অতীতে যেমনটি কখনও দেখা যায়নি। অথচ ওই উপজেলায় প্রতি নিয়োগেই একটি বড় সংখ্যার অস্থানীয়রা নিয়োগ পেয়ে থাকেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এই অস্থানীয়রা স্থানীয় অসাধু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জগন্নাথপুরের স্থায়ী অধিবাসী সেজে ভুয়া নাগরিক সনদপত্র গ্রহণ করে এই ধরনের নিয়োগ পেয়ে থাকেন। একসময় জগন্নাথপুর ্উপজেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যেত না বলে বহিরাগতদের নিয়োগ নিয়ে তেমন করে কেউ কথা বলেনি। কিন্তু এখন অবস্থা পালটেছে। উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচুর যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। এরকম অবস্থায় অস্থানীয়রা এরকম অসাধু পন্থায় নিয়োগ বাগানোর ফলে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছে। সুতরাং অস্থানীয়দের নিয়োগের বিষয়ে এবার যে আপত্তি উঠেছে সেটিকে আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক বলেই মনে করি। সরকার যে উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রার্থীদের শিক্ষক পদে নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তার পিছনে বহু কারণ আছে। বাইরের কেউ নিয়োগ পেলে তারা অল্পদিন পরই নিজেদের এলাকায় বদলি হয়ে যান, ফলে উপজেলায় শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। স্থানীয়দের নিয়োগ দিলে অন্তত এই সংকট থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
নীতিমালা লংঘন করে কীভাবে অস্থানীয়রা স্থানীয় বাসিন্দা সেজে নিয়োগ লাভ করেন এবং কারা তাদেরকে সহায়তা করেন তা উদঘাটন করা দরকার। নতুবা শর্ষের মধ্যে ভূত রেখে শুধু ধুনো জ্বালিয়ে সমস্যার মূল উৎপাটন করা সম্ভব নয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। কারণ কোন না কোন উপায়ে তাদের নিকট থেকেই এরা সনদপত্র সংগ্রহ করে থাকে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দকে এলাকার স্বার্থ সংরক্ষণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
এবারের নিয়োগে যে ১০ জনকে অস্থানীয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইনের ফাঁক গলিয়ে যাতে অবৈধ কেউ টিকে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। স্থানীয় যারা এ বিষয়ে প্রতিবাদী হয়েছেন তাদেরকে দায়িত্ব নিয়ে এর শেষ পর্যন্ত যেতে হবে। এখন অভিযুক্তরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার ও আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করবেন। সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে অযাচিত হস্তক্ষেপে এই যুক্তিসংগত প্রতিবাদ কর্মসূচীটি ভেস্তে না যায়। তবে আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য হল, অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে যেন কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপন না করা হয়। কারণ একটি ন্যায়সংগত দাবি যখন জনগণের ভিতর থেকে জাগ্রত হয় তখন সেখানে উদ্দেশ্য সাধনের জন্যও কিছু সংখ্যক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে। এদের থেকে প্রতিবাদকারীদের সাবধান থাকতে হবে।
সরকারের বহুমুখী ও বহুবিস্তৃত পদক্ষেপের ফলে আমরা ক্রমশ শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিক শিক্ষা হল, শিক্ষা ব্যবস্থার অপিরিহার্য ও মৌলিক প্রাথমিক ধাপ। এই ধাপটির উপর নির্ভর করে আমরা ভবিষ্যতে কেমন প্রজন্মের হাতে দেশটির দায়িত্ব অর্পন করব। এরকম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোন ধরনের বেআইনি প্রপঞ্চের উপস্থিতি থাকুক তা কারও কাম্য নয়।