অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে সবজি বাজার

লিপসন আহমেদ
রমজান মাস শুরুর পূর্বে অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে সবজি বাজার। যৌক্তিক কারণ না থাকলেও সবজির দাম বাড়ছে। আর এজন্য অসুবিধায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। একদিনের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। বরাবরের মতো খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়ার জন্য দুষছেন আড়তদারদের। বিক্রেতারা দাবি করছেন রমজান মাস উপলক্ষে আড়তদাররা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ক্রেতারা এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় তদারকি কামনা করেছেন। মঙ্গলবার বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত একদিনের ব্যবধানে চিচিঙ্গা কেজি প্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পুরল ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, কাকরুল ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, শসা ৪৫ টাকা কেজি থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং লেবু ১০ টাকা হালি থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌর শহরের জেল রোড, থানা পয়েন্ট, আধুনিক কিচেন মার্কেট, কালীবাড়ি পয়েন্ট ঘুরে বাজারের এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিকে হঠাৎ করে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। ক্রেতারা অস্বাভাবিক দাম বাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে জেলা প্রশাসনের এখন থেকেই বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
সবজি কিনতে আসা শহরের নবীনগর এলাকার আজিজুর রহমান বলেন, ‘সোমবার আমি যে সবজি ৪০ টাকায় কিনেছি সেটা আজ ৬০ টাকা হয়েছে। রমজান মাস শুরুর পূর্বেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সবজি কেনা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। ’
তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রশাসনের তদারকি থাকলে সবজির দাম এতো বাড়ত না।’
শহরের ষোলঘর এলাকার নিরব আহমেদ বলেন, ‘ভাই, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সবজির বাড়তি দাম দেখে প্রয়োজনে অনেক কিছু কাটছাট করতে হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করে সবজি ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, ‘আমরা সবজির দাম বাড়াইনি, আরতদার ব্যবসায়ীরা মাহে রমজান উপলক্ষে সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে বেশী দামে কিনেছি তাই বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
তবে আড়তদাররা বলছেন, আমরা ঢাকা, যশোর, সিলেট থেকে সবজি আমদানি করি। সেখানকার বেপারীরাই সবজির দাম বাড়িয়েছেন। এজন্য বাজারে সবজির দাম উর্দ্ধমুখী।