অস্থিরতা জেলার চালের বাজারে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একেক এলাকায় একেক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। জেলার গ্রামাঞ্চলে আতব চাল বেশি বিক্রি হয়। কোন এলাকায় এই চাল ২৮ থেকে ৩০ টাকা, আবার কোথাও একই চাল বিক্রি হয় ৩২ টাকা। সিদ্ধ চাল চলে শহর এলাকায় বেশি। এই চাল ৩৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলাররা বললেন, ধানের দাম উর্ধ্বমুখী এজন্য চালের দামের এই অবস্থা।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাখাই ধানের চাল ওখানে ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং ঝলক বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। জামালগঞ্জে একই ধরণের চাল ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রয় হয়। সুনামগঞ্জ শহরে একই চাল ৩৩ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রয় হয়।
সুনামগঞ্জ শহরের চালের দোকানগুলোয় স্থানীয় জাতের সিদ্ধ চাল ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা এবং বাইরের সিদ্ধ চাল (পুরাতন) ৩৮ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। চাল ছাড়া অন্য কোন খাদ্য পন্য এভাবে একেক এলাকায় একেক দরে বিক্রয় হচ্ছে না।
বিশ^ম্ভরপুরের কৃষক রসময় বর্মণ বলেন, মিলালরা ৭০০ টাকা মণে এক দুই মাস আগেই ধান কিনে রেখেছে। দেড়মণ ধানে একমণ চাল হয়ে থাকে। সেই হিসাবে জেলার কোথাও আতব চালের দাম ৩২ টাকার বেশি হবার কথা নয়।
সুনামগঞ্জের বাজারের চাল বিক্রেতারা বললেন, আমরা মিলারদের কাছ থেকে যে দামে চাল কিনে আনি, সেই দামের সঙ্গে সমন্বয় করে সামান্য লাভে খুচরা বিক্রয় করছি।
সুনামগঞ্জ শহরতলির অক্ষয় নগরের চালের পাইকার মিজানুর রহমান জানালেন, তিনি মিলগুলোতে চাল কিনে খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করেন। সুনামগঞ্জের মিলগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ২৯ জাতের আতব প্রতি কেজি ৩১ টাকা ও ২৮ জাতের চাল ৩২ টাকা কেজিতে বিক্রয় হচ্ছে। মোটা চালের ৫০ কেজির বস্তা ১৪৫০ থেকে ১৪৬০ টাকা। স্থানীয় জাতের সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা এবং অন্য জেলা থেকে আসা সিদ্ধ চাল ৩৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রয় হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের রাসেল অটো রাইস মিলের মালিক রাসেল আহমদ বললেন, হাওরাঞ্চলে ধানের দাম উর্ধ্বমুখী। নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর এবং আশুগঞ্জের আড়ৎদাররা এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ধান কিনে নিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চল থেকে ধান কিনে সুনামগঞ্জের মিলে পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন খরচ সহ ধানের মণ প্রায় ৯০০ টাকা পড়ছে। এক মণ ধানে সিদ্ধ চাল হয় ২৩ কেজি। সেই হিসাবে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজি’র নীচে চাল কীভাবে বিক্রি করবো আমরা। গ্রামাঞ্চলে আতব চালের মিল বেশি। তারা অনেক সময় চাল ভাঙানোর পর নষ্ট হবার ভয়ে ১-২ টাকা কেজিতে কম দিয়েও চাল বিক্রি করে দেয়। এ কারণে অনেক সময় একেক বাজারে একেক রকম হয় চালের দাম।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, সরকারি ক্রয় কেন্দ্রের বাইরেও এখন তুলনামূলক ধানের দাম ভালো। মানের উপর ধান-চালের দাম নির্ধারণ হয়। যেখানে ধানের বা চালের মান ভালো, সেখানে এক দাম, আবার যেখানে মানের দিক থেকে একটু খারাপ সেখানে আরেক দাম। সুনামগঞ্জে আতব চাল বেশি হয়। আতব চাল কোথাও ২৯ টাকা আবার কোথাও ভালো মানের চাল ৩২ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। বাজার মনিটরিং জোরদার রয়েছে। কেউ ইচ্ছামাফিক বেচা-কেনা করতে পারবে না।