অস্থির চালের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের বাজারে হঠাৎ চাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। খুচরা দোকানীরা অযৌক্তিক বাড়তি কেনাকাটায় পাইকারী বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছে পণ্যের। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি এক বস্তা) ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা বাড়িয়েছেন। গত এক সপ্তাহে এ দাম বাড়ান তারা। এছাড়াও তেলা, পেঁয়াজের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়িয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন এটা চালের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।
জানা যায়, বাজারের সব রকমের চালের বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা থেকে সর্বনি¤œ ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মিনিকেট চাল গত সপ্তাহ থেকে এ সপ্তাহে ২ হাজার থেকে এখন ২২৫০ টাকা, ২৮ আতব ১৮৫০ টাকা থেকে ১৯৫০ টাকা, উনত্রিশ মালা ১৭৫০ টাকা থেকে ১৮৫০ টাকা, মোটা আতব ১২৫০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা, জিরা শাইল ২৫শ টাকা থেকে ২৬শ টাকা ও নাজির শাইল ২৪শ টাকা থেকে ২৫শ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের দামের পাশাপাশি বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
গত বুধবার বেলা ১১টায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব পণ্যের মজুদ, সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রমজান পর্যন্ত চাহিদা মেটাতে সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি পণ্য কিনে মজুদ করতে হবে।
কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির
ব্যবসায়ীরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল বৃদ্ধি করেছে। ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করে রাখেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্চ মাসে চালের মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয়। প্রতি বছরই এই সময়ে চালের দাম বাড়ে। মিলে ধান সরবরাহ এখন খুবই কম। আবার এপ্রিল মাসের শেষের দিকে চালের মূল্য কমে যাবে।
হাসন নগরের বাসিন্দা ক্রেতা ফারুক মিয়া (৪৫) বলেন, খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে। হঠাৎ করে প্রয়োজনীয় পণ্যে দাম বাড়ায় অসুবিধায় আমরা। কিছু করার নেই, বাঁচতে হলে কিনতেই হবে।
একই এলাকার বাসিন্দা ক্রেতা লুৎফা আনুয়ার (৫০) বলেন, বাজারে চাল কিনতে এসেছি। প্রতি বস্তায় প্রায় ২শ টাকা বেড়েছে। অনেক খুচরা ব্যবসায়ীদের গুদামে চাল মজুদ করা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনে আনলেও আগের মজুদকৃত চালেরও দাম বাড়িয়েছে তারা।
মেসার্স শুধাংশু এন্ড সন্স এর ম্যানাজার তপু পাল বলেন, ১ সপ্তাহ আগেও বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক ছিলো। বর্তমানে সব রকমের চালের দাম বেড়েছে। আমরা মিল থেকে পাইকারী দরেই বেশি মূল্য দিয়ে চাল কিনে আনছি।
সুহেল টেড্রাসের মালিক সুহেল মিয়া বলেন, আমাদের খুচরা ব্যবসায়ীদের গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল রয়েছে। আমার গুদামে ৩শ বস্তা চাল রয়েছে। এরকম অনেকের গুদামেই ৫শ বস্তা ৭শ বস্তা চাল রয়েছে।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাদকপুর গ্রামের বাসিন্দা পাইকারী চাল বিক্রেতা রফিক বলেন, এখন ধান কম পাওয়া যায়। আটাশ আতব ধান প্রতিমণ ১০০০ টাকায় কিনে আনি। সেটা চাল করে ১৯শ থেকে ১৯৫০ টাকা ধরে বিক্রি করি আমরা।
জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা আব্দুল খালেক খান বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি আমরা দেখিনি। প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া এই সময়ে স্বাভাবিক বিষয়।