আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন নেই ৮ মাস

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলার ১১ টি উপজেলার সরকারি হাসপাতালে আউটসোর্সিং খাতে চাকুরীরত কর্মীদের ৮ মাস ধরে বেতন আটকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন আটকে থাকায় অনেকে ঠিক মতো অফিস করছেন না। অফিসে আসলেও কাজে মন দিচ্ছেন না। এতে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতাল পরিচালনার স্বাভাবিক কার্যক্রম। আউটসোর্সিং কর্মীরা বলছেন, সদ্য মৌলবীবাজার বদলিকৃত সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদ আহমদ যোগদানের পর আশ^াস দিয়েছিলেন বেতন পরিশোধ করার। কিন্তু ১৯ দিনের মাথায় বদলিতে সে আশার আলো নিভে গেলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ১১ টি উপজেলার হাসপাতালে ২৩৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসাবে চাকরীরত রয়েছেন। গেল বছরের মে মাসে নিয়োগ হয়েছিলো তাদের। নিয়োগের পর চাকরীরত কর্মীরা একবার বেতন তুলতে পেরেছেন। তাও ২ মাসের একসঙ্গে সবার বেতন হয়েছে। এরপর ৮ মাসেও বেতন না হওয়ায় এদের অনেকেই অনিয়মিত হয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন বেতন না হওয়ায় অনেকে কাজে মনযোগ দিতে পারছেন না। আশায় আশায় ৮ মাস থাকলেও এখন সবাই হতাশ হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আউটসোর্সিং খাতে ৭৪ জন কাজ করছেন এই হাসপাতালে। এদের কারো বেতন হয়নি গত আট মাস। এতে অনেকেই নিয়মিত অফিস করছেন না। যারা করছেন তারা কাজে মন দিচ্ছেন না। আউটসোসিং এই কর্মীদের অনুপস্থিতির জন্য হাসপাতালে অনেক কাজ ঠিকমত হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউটসোর্সিং খাতে চাকরীরত এক কর্মী বলেন, ৮ মাস বেতন আটকে থাকায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে অনেকেই নিয়মিত অফিস করছেন না। ১১ ফেব্রুয়ারি আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভায় বসেছিলেন। সে আলোচনা সভায় তিনি দ্রুত বেতন সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ওয়ার্ড বয় ইউসূফ বলেন, ২০১৯ সনের মে মাসে আমরা যোগদান করেছি। নিয়োগের পর মে-জুন মাসের বেতন হয়েছে একবারের। আরেকটা বোনাস পেয়েছি। আর কোনো বেতন হয়নি। আট মাস বেতন ছাড়া। আমরা সুনামগঞ্জের বাসিন্দা তাই বিনা টাকায় রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
নিরাপত্তা প্রহরি রাকিব বলেন, আরএমও স্যারের যন্ত্রণায়ই কেউ কাজ করতে চায় না। উনি আমাদের বিষয়ে তেমন আন্তরিক না। আমরা ৮ মাস ধরে বেতন পাইনা। মনমানসিকতা ভালো না। নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে হাসপাতালে আসি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন সবাই অফিস করলেও কাজে মনযোগ দিচ্ছেন না। আমরা মিটিংয়ে বলেছি তারা যেনো মন দিয়ে অফিস করেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তাই নিদিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না ।