আওয়ামীলীগকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জগন্নাথপুর অফিস
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ ও তাঁর ভাই জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদের গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুর পৌর শহরের পূর্ব ভবানীপুর (ছিলিমপুর) বুধবার রাতে আগুন লাগার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। এতে করে রাজনৈতিক সম্প্র্রীতির এ উপজেলার সম্প্রীতি বিনষ্টের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও দুই দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জানান, বুধবার রাত ১২টায় কয়ছর আহমেদের বাড়ির বাংলা ঘরে আগুন লাগলে আগুনের ধোঁয়া টের পেয়ে কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমান বের হয়ে চিৎকার দেন। এসময় দুই দুর্বৃত্ত দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এদিকে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগকে দায়ী করে এ ঘটনার নিন্দা জানান।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ কে এ ঘটনায় দায়ী করা হলেও পক্ষে বিপক্ষে নেতাকর্মীরা বিবৃতি দেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা বলেন, জগন্নাথপুরের রাজনৈতিক সম্প্রতির অনন্য নজির রয়েছে। বিএনপি নেতা কর্মীরা শান্তি পূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন। কেউ তাদের কোন বাধা দেয়নি। দুই বিএনপি নেতা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন নির্বিঘেœ। রাজনৈতিক সম্প্রতি নষ্ট করতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে এ নাটক সাজানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদের বাড়িতে আগুন লাগার অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধী সনাক্ত করতে আমরা জোর দাবি জানাই। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ কে এ ঘটনায় জড়িয়ে বিএনপির বিবৃতি দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। তাঁরা বলেন, আওয়ামী লীগ রাতের আঁধারে কোন কাজ করে না। রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে। রাজনৈতিক সম্প্রতি নষ্ট করতে বিএনপি মিথ্যাচারে মেতেছে। টানা তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার পরও বিএনপির কোন নেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কোন হামলা, মামলা এ উপজেলায় হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হোরায়রা বলেন, আমরা এ ঘটনার তদন্ত পূর্বক প্রতিকার চাই। জগন্নাথপুরে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ভালো থাকলেও সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মীরা হয়রানি হচ্ছে। এ অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনায় আমরা শঙ্কিত।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথপুরের রাজনৈতিক সম্প্রীতি খুব ভালো। আগুনে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট করতে কেউ কেউ অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদের পরিত্যক্ত বাড়ির বাংলা ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বাড়ির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমান। তিনি দুইজনকে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ কে দায়ী করে বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হলে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।