আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন/ গণতন্ত্র চর্চার সুস্থ ধারা তৈরিতে ভূমিকা রাখুক

দিরাই উপজেলার মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনের পর্দা উন্মোচিত হবে সোমবার থেকে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ডিসেম্বর মাসে হবে জেলা সম্মেলন। সামনের বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করে তোলার চেষ্টা শুরু করেছে। বিএনপি ইতোমধ্যে সফলভাবে বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে। আওয়ামী লীগও সে পথে হাঁটছে। শুক্রবার ঢাকায় যুব লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মহাসমাবেশে প্রচুর লোক সমাগম ঘটিয়ে বিএনপিকে পালটা জবাব দেয়া শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সাংগঠনিক চর্চা ইতিবাচক। সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটে নিয়মিত সম্মেলন ও সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের ভিতর গণতান্ত্রিক চর্চার যে সুযোগ তৈরি হয় তার মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়, অন্যদিকে নেতা-কর্মীদের এই গণতান্ত্রিক চর্চার ফলে সংগঠনের আদর্শ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। এটি রাজনৈতিক প্রশিক্ষণেরও অংশ বটে। কিন্তু বাস্তবে কি সে রকমই হয়? গতকাল দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে যে সংবাদ বিশ্লেষণ প্রকাশ হয়েছে সেখানে দেখা যায়, উপজেলা কমিটি এখন পর্যন্ত আওতাধীন ইউনিয়ন ইউনিটগুলোর সম্মেলন করতে পারেনি। অধীনস্ত কমিটিগুলোর সম্মেলন ও কমিটি না করে উর্দ্ধতন স্তরের সম্মেলন ও কাউন্সিল করা কতটা গঠনতন্ত্রসম্মত সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা বুঝবেন। তবে সকল পর্যায়ে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার যে অভিলাষ আমরা মনে পোষণ করি এই অবস্থা তার সাথে বেমানান। এর ফলে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপজেলা কমিটি গঠনে রীতিসম্মত মতামত প্রদানের পথ কিছুটা রুদ্ধ হয়। জানা যায় কাউন্সলর নির্ধারণে উপজেলা পর্যায়ে বিভাজিত ধারার মূল নেতাদের ইচ্ছা অনিচ্ছাই প্রাধান্য পাবে। গঠনতান্ত্রিক নিয়মের চাইতে যখন ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছা মূখ্য হয়ে উঠে তখন আর যাই হোক সেটি সাংগঠনিক বিকাশের পথ কিছুটা হলেও রুদ্ধ করে। দেশের প্রাচীন, বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিটি কাজে অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত দেখতে চায় সকলে। এই জায়গায় অন্তত একটি উপজেলায় সম্মেলন হওয়ার আগের বাস্তব চিত্র কতটা আশাব্যঞ্জক তা বিবেচনা করে দেখার দাবি রাখে বৈকি।
দির্ইা উপজেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের এই পর্যায়ক্রমিক সম্মেলন কর্মসূচির সফল সমাপ্তি সকলের কাম্য। একই সাথে নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটুক, এও প্রত্যাশিত। জনগণ, সাধারণ কর্মী সমর্থক ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের অন্যতম জায়গা এই সম্মেলনগুলো সুন্দরভাবে শেষ হলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা যেকোনো অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে প্রতিহত করার জন্য সহায়ক হবে। সামনের নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ থাকবে বলে অনুমিত হয়। এবং এই ধরনের পরিবেশ অপ্রত্যাশিতও নয় আমাদের মতো দেশে। সুতরাং জনগণের জন্য দুর্ভোগ তৈরিকারী পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক দলগুলোর অতিমাত্রায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে এই সময়ে। বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে প্রতিহত করে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরিতে নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার পথও খোলে দিবে। এই আকাক্সক্ষা থেকে আমরা আওয়ামী লীগের পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলনগুলোর সফলতা কামনা করি।