আওয়ামী লীগ নামলে বিএনপি বুড়িগঙ্গা দিয়ে পালাবে – আহমেদ হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বলেছেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে আওয়মী লীগ। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে শান্তিতে ঘুমাইতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা সুবিধাবাদি চাই না, সোনার মানুষ চাই।
তিনি বলেন, বিএনপি নাকি বলছে ১০ তারিখ সমাবেশ করবে। বাধা কোথায়, করবে। এগুলো গণতান্ত্রিক অধিকার। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির পতন শুরু হবে। গণঅভ্যুত্থান কাকে বলে বিএনপি জানে না। আওয়ামী লীগ মাঠে নামলে বিএনপি বুড়িগঙ্গা দিয়ে পালাবে। আওয়ামীলীগের শক্তি জনগণ। বিএনপি দূতাবাসে দূতাবাসে গিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে আসতে চায়।
বুধবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাড়িতে-গাড়িতে আগুন দিলে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করলে, আমরা কাউকে রেহাই দেবো না। ২৪ ঘন্টার মেসেজে লক্ষ লক্ষ কর্মী ঢাকায় জড়ো হবে। বিএনপি পালাতে বাধ্য হবে। ১২ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে তারেক রহমান। সেসময় ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার সময়ে আমরা কি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমরা দুর্নীর্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। আয়রন লেডি শেখ হাসিনা, মাথা নত করেন না। আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা জয়ী করবো। বিএনপি বাংলাদেশে আর ক্ষমতায় আসবে না।
তিনি বলেন, দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। আওয়ামীলীগে থাকলে হিরো, অ্যাক্সপেল হলে জিরো। দিরাইয়ে কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে। মোশারফের যে গ্রামে বাড়ি সেই গ্রামেরই ছেলে সভাপতি। এখন মোশারফ বের হবে কি করে। সেদিন যে ঘটনা ঘটাইছে আমরা কি পালাইছি। আমরা মোকাবেলা করেছি। আওয়ামীলীগ ভয়ে পালিয়ে যাওয়াদের দল নয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকমল হোসেন’র সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, আমরা পাকিস্তানের শোষণে দুনিয়ার মধ্যে একটা দরিদ্র দেশ ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। ধ্বংসস্তুপের উপর উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। উন্নয়ন থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। জিয়া, এরশাদ সরকারের টাকা পয়সা খাটিয়ে দল গঠন করেছেন। এদেশের যা যা ভালো তার সব কিছুই আওয়ামীলীগের সময়ে হয়েছে। বিএনপি জামায়াত এদেশের ধ্বংস চায়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে। বিদেশে বসে দেশে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছে। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার কাজ করছি।
বিশেষ অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধু। তিনি আমার জীবনের ধ্রুবতারা। তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ না পেলেও তার কন্যার সঙ্গে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, আপনি আমার সঙ্গে কাজ করুন। আমি আপনাকে দেখবো। প্রথম বার তিনি দুইটি মন্ত্রণালয় এবং এবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। পদ্মাসেতুর চেয়েও বড় উড়াল সড়ক কাজ করবো আমরা সুনামগঞ্জে। এখানে এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট করবো। টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট করবো। উন্নয়নের স্বার্থে আপনাদেরও শেখ হাসিনার সাথে থাকতে হবে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন।
সন্ধ্যায় বর্তমান সভাপতি আকমল হোসেন সভাপতি এবং রেজাউল করিম রিজুকে সাধারণ সম্পাদক, মিজানুর রশিদ ভুইয়াকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং আবুল হাসানকে যুগ্ম সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।