আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার
দেশের কোথাও পরিবহন ধর্মঘট না হলেও হঠাৎ করে মঙ্গলবার ভোর থেকে সারাদিন জেলার কোনো রুটে যানবাহন চলাচল হতে দেখা যায়নি। আগের রাতেও এই ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের কোনো খবর গণমাধ্যমে আসেনি। কারা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সেটিও স্পষ্ট হয়নি।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’এর সংশোধনের দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস, মাইক্রোবাস, অটো, লেগুনা, সিএনজি চালক-শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করেছে। সাধারণ শ্রমিকের ব্যানারে এই কর্মবিরতি পালন করা হয়। এ কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কেও মঙ্গলবার যানবাহন চলাচল করে নি। দিনভর ভোগান্তিতে ছিলেন যাত্রীরা।
কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে কর্মবিরতি আহ্বান করায় জনভোগান্তি বেশি ছিল। জেলার সব কয়টি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি কাজেও মানুষ চলাচল করতে পারে নি। কর্মবিরতির পক্ষের শ্রমিকরা সড়কের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় দূরপাল্লার বাসও চলাচল করতে পারে নি।
বিশ^ম্ভরপুরের ধনপুরের আসকর আলী বলেন, আমার মাকে চিকিৎসা করানোর জন্য ১৫ দিন সিলেটের একজন ডাক্তারের টিকেট নিয়েছিলাম, অনেক চেষ্টা করেও সিলেটে যেতে পারি নি।
সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া জানালেন, মঙ্গলবার সকাল সন্ধ্যা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল সাধারণ শ্রমিকরা। কোনো সংগঠিত শ্রমিক সংগঠন এই কর্মবিরতির ডাক দেয় নি। সাধারণ শ্রমিকরা সকল পরিবহন মালিক সংগঠনকে আগের দিন রাতে জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবিতে তারা এই কর্মবিরতি পালন করবে। আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া না হলে, আরও বৃহৎ কর্মসূচি দেবার কথাও জানিয়েছে তারা।
সুনামগঞ্জের পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানালেন, সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। সাধারণ শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।