আকাশে মেঘ দেখলেই কৃষকরা মাঠ ছাড়ছেন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বৈশাখ মাসের শুরু থেকে হাওরগুলোতে বজ্রাঘাতে মৃত্যু এবং সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে এক শ্রমিক ও শনির হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেলে এ আতংক ছড়িয়ে পড়ে হাওর পাড়ের সমস্ত কৃষক শ্রমিকদের মধ্যে। এ অবস্থায় গত তিন দিন ধরে আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখে হাওর থেকে হাজারো শ্রমিক-কৃষককে ধান কাটা ছেড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। আকাশে মেঘ দেখে যে যার মত করে দৌঁড়ে বাড়ি ফিরছেন। পরে দিন ভাল হলেও আর হাওরে যাচ্ছেন না ধান কাটতে। এক দিকে জমিতে পাকা ধান অপর দিকে বৈরী আবহাওয়া কোন দিকে যাবেন কৃষক তা ভেবে তারা কূল পাচ্ছেন না। তাই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি এখনই হাওরগুলোতে বজ্র নিরোধ যন্ত্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরী।
শনির হাওর থেকে উঠে আসা কৃষক ইউনূছ আলী বলেন, ‘আইড়া কোনা দিয়া সাজ করলে দৌড়িয়া বাড়িত আওয়া যায় না তার আগে ঠাডা শুরু অইয়া যায়,তাই আইড়া কোনা দিয়া সাজ দেখলে আগে ভাগেই আওর থাইক্যা দৌড়াইয়া বাড়িত আসি।’ কথাগুলো বলছিলেন শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনূছ আলী। কথাগুলো শুধু ইউনূছ আলীরই নয়, বর্তমানে এ রকম বক্তব্য হাওর পাড়ের শত শত কৃষক ও শ্রমিকের। তাদের মতে ‘ঈশান কোণার মেঘ মানেই ঝড় বৃষ্টি সাথে বজ্রপাত এবং ঘটছেও তাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায় গত ১ মাসের ব্যবধানের সুনামগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ১০জনের বেশী।
শনির হাওরে ধান কাটতে আসা শ্রমিক তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের শহিদ মিয়া বলেন, ১৫ দিন হল এসেছি কিন্তু দিন খারাপ থাকায় তেমন ধান কাটা হয়নি। প্রায় দিনই মেঘ দেখে ভয়ে হাওর থেকে দৌড়ে ফিরেছি।
গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি বলেন, বোর ধান কাটার সময় হাওরে গিয়ে মাঝে মধ্যে খুব বিপদে পড়তে হয়। ইচ্ছে করলেও মেঘ দেখে বাড়ি ফিরে আসা যায় না। বিপদে পড়েই মেঘ-বৃষ্টি, বজ্রপাত মাথায় নিয়ে হাওরেই অবস্থান করি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বর্তমানে হাওরে নতুন আতংকের নাম বজ্রপাত, শ্রমিকরা বজ্রপাতের ভয়ে মেঘ দেখেই বাড়ি ফিরে আসে । তাই কৃষক, শ্রমিকের জীবন বাচাঁতে এখনই হাওরগুলোতে বজ্র নিরোধ যন্ত্র স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।