আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সৌদি আরব

সু.খবর ডেস্ক
আজ লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ফেবারিট আর্জেন্টিনা। পঞ্চমবারের মত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনের মেসির উপরই থাকবে ম্যাচের সব স্পটলাইট। পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসিও সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথমবারের বিশ্ব আসরের শিরোপা হাতে তোলার অপেক্ষায় আছেন। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ফুটবলের এই ক্ষুদে যাদুকরের জন্য আশাটা মোটেই অতিরিক্ত নয়।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা সঙ্গী করেই লিওনেল স্কালোনির দল কাতারে খেলতে এসেছে। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপটা নিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ায়। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে যখন আর্জেন্টিনা বিশ্ব আসরের শিরোপা জিতেছিল তখন মেসির জন্মও হয়নি।
২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে ২—০ গোলে হারানোর পর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থেকে কাতারে খেলতে এসেছে আত্মবিশ্বাসী আলবে সেলেস্তারা। লাতিন অঞ্চলের বাছাইপর্বের কোন পরাজয়ের স্বাদ পায়নি স্কালোনির দল। সব প্রতিযোগিতায় শেষ পাঁচটি ম্যাচে তারা জয়ী হয়েছে। সর্বশেষ জয়ী এই পাঁচ ম্যাচে কোন গোলও হজম করেনি। বিপরীতে প্রতি ম্যাচে অন্তত তিনটি গোলসহ সর্বমোট ১৬ গোল দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বুধবার তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫—০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে।
চার বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ১৬’ থেকে বিদায় নিয়ে যতটা না হতাশা রয়েছে তার থেকে বেশী হতাশা রয়েছে টুর্ণামেন্টে চার ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে। অথচ ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল আর্জেন্টিনা। জার্মানীর কাছে অবশ্য ১—০ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ শিরোপা নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কাতারে তাই গ্রুপ—সি’র সেরা দল হিসেবে পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও সৌদি আরবের উপরে থেকেই প্রথম পর্ব শেষ করতে চায় স্কালোনির দল।
এদিকে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু ৫—০ গোলের পরাজয়ের দু:সহ স্মৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভাল ম্যাচ উপহার দিতে চায় এ্যারাবিয়ান ফ্যালকনসরা। যদিও র‌্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা বিচারে আর্জেন্টিনা তাদের থেকে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে।
গত আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে সৌদি আরবের বিদায় প্রত্যাশিতই ছিল, এবারও অবশ্য তা ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ডাচ কোচ হার্ভে রেনার্ডের দলের এবার মূল লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়া। ১৯৯৪ সালে সৌদি আরব শেষ ১৬’ থেকে বিদায় নিয়েছিল। বিশ্বকাপের এটাই এ পর্যন্ত দলটির সেরা সাফল্য। যদিও বিশ্বের ৫১তম র‌্যাঙ্কধারী দলটি সেরা ফর্মে থেকে কাতারে আসেনি। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামার সাথে ১—১ গোলে ড্র করলেও ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে গেছে ১—০ গোলে। যদিও কাতারের পরিবেশ কিংবা আবহাওয়ায় খেলতে অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সৌদি আরব।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এর আগে কখনই আর্জেন্টিনা—সৌদি আরব মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু এ পর্যন্ত এশিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চারটি ম্যাচের দুটিতে জয় ও দুটিতে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। ২০১২ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়েছিল। ইনজুরির কারনে ইতোমধ্যেই দল থেকে ছিটকে গেছেন ফরোয়ার্ড জোয়াকুইন কোরেয়া। তার স্থানে শেষ মুহূর্তে দলে এসেছেন থিয়াগো আলমাডা। আক্রমনভাগে লিওনেল মেসির সাথে দেখা যাবে লটারো মার্টিনেজ ও এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে। রক্ষনভাগের নেতৃত্বে থাকবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও নিকোলাস ওটামেন্ডি।
সৌদি আরব দলে পাঁচ ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মিডফিল্ডার রিয়াদ শারাহিলি পেশীর ইনজুরিতে পড়ায় বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে ১৭টি আন্তর্জাতিক গোল করা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ফাহাদ আল—মুওয়ালাদের ছিটকে পড়াটা দলের জন্য অনেক বড় দু:সংবাদ।
সূত্র : বাসস