আগামীকাল শুভ জন্মাষ্টমী

স্টাফ রিপোর্টার
আগামীকাল রবিবার শুভ জন্মাষ্টমী। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী থেকে দুরাচারী দুষ্টের দমন আর সজ্জনদের রক্ষার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দিনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাব তিথিকে ভক্তরা শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।
জেলার বিভিন্ন মন্দিরে আজ মঙ্গল শোভাযাত্রা, পূজা অর্চনা, সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি নাট মন্দিরে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আজ শনিবার বিকাল ৩টায় কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আগামীকাল রবিবার ভোর ৬টায় বৈদিক স্তোত্র পাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, হরিধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মাঙ্গলিক শুভ উদ্বোধন। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি নাট মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এসময় অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়, সিনিয়র আইনজীবী ও কথা সাহিত্যিক অ্যাড. স্বপন কুমার দেব, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের (অব:) অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে। দুপুর ১২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুরস্কার বিতরণ ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, রাত ১০টায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গলঘট স্থাপন ও পূজা আরম্ভ, রাত ১২.১মি. বৈদিক স্ত্রোত্র পাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, হরিধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উদযাপন। রাত ১২.৫মি. পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ শেষে মহাপ্রসাদ বিতরণ। ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৭টায় নন্দ উৎসবের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) শ্রীশ্রী কালাচাঁন ও গোপাল জিউ আঁখড়ায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর রবিবার অধিবাস ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় মঙ্গল আরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় দর্শন আরতি ও গুরুপূজা, সকাল ৮টায় ভাগবতম পাঠ, দুপুর ১২টায় কীর্ত্তন মেলা, বিকাল ৪টায় সেমিনার ‘কৃষ্ণলীলা’, সন্ধ্যা ৭টায় তুলসী আরতি ও গৌর আরতি, রাত ১১টায় মহা অভিষেক ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।
৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সাড়ে ৪টায় মঙ্গল আরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় দর্শন আরতি ও গুরুপূজা, সকাল ৮টায় ভাগবতম পাঠ, বেলা ১১টায় শ্রীল প্রভুপাদের মহা অভিষেক, দুপুর ১২টায় শ্রীল প্রভুপাদের জীবনী আলোচনা, দুপুর ২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ, বিকাল ৪টায় সেমিনার ‘পাশ্চাত্য দেশ উদ্ধারে শ্রীল প্রভুপাদের ভূমিকা’, সন্ধ্যা ৭টায় তুলসী আরতি ও গৌর আরতি।
কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুবক সংঘের আয়োজনে নতুন পাড়া শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় বৈদিক স্তোত্র পাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, হরিধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ৫দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ ও ভাগবতীয় প্রবচন করবেন শ্রী সুভাষ গোস্বামী। রবিবার ভোর ৫টায় মঙ্গল আরতী ও নগর কীর্ত্তন পরিক্রমা, সকাল ১০টায় ধর্মীয় গীতাভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, দুপুর ২.৩০মি. সমবেত গীতা পরায়ণ ও ভজন কীর্ত্তন, বিকাল ৪টায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এছাড়াও ৫দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার মধ্যে রয়েছে শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ ও ভাগবতীয় প্রবচন, কীর্ত্তন মেলা ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রভাতী কীর্ত্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।
মন্দির ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ছাডাও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা করবেন।