আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি ও ভেটেরিনারি ইন্সস্টিটিউট হবে-এম.এ মান্নান

স্টাফ রিপোর্টার
‘বঙ্গবন্ধু সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নানকে অভিনন্দন জানিয়ে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ পৌর শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়েছে। ‘সুনামগঞ্জবাসীর’ ব্যানারে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতি ও পেশাজীবী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান। জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, পৌর মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মো. শামছুল আবেদীন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মনীষ কান্তি দে মিন্টু, সাংবাদিক খলিল রহমান, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক রশিদ আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন, ছাত্রলীগ নেতা আক্তার ইবনে আজিজ পাঠান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জের ইতিহাসে এর আগে এতো বড় প্রকল্প কখনো হয়নি। জেলার সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। মাত্র কয়েকদিন আগে প্রায় এগারশো কোটি টাকার এই প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। শেখ হাসিনা হাওরের জনগণকে ভালোবাসেন, সুনামগঞ্জকে ভালোবাসেন, ¯েœহ করেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় আমরা সুনামগঞ্জবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। এতে হাওরবাসীর স্বপ্ন পূরণ হলো। প্রধানমন্ত্রী হাওরবাসীর প্রতি সবসময়ই আন্তরিক।’
এম.এ মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন শ্রেষ্ঠ সময় যাচ্ছে। শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে দেশকে বদলে দিয়েছেন। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, গ্রামের স্কুল, রাস্তাঘাট এটা শেখ হাসিনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন,‘আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে ভালো সময় আগে কখনও ছিলো না। এই দেশের দরিদ্র, মানুষের জন্য, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, নারীদের জন্য, শিশুদর জন্য যে কাজ চলছে তাতে গত দশ বছরে বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়েছে। আমরা ভাগ্যবান, কারণ যেভাবে তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন, তেমনিভাবে শেখ হাসিনা এই দেশ থেকে দারিদ্রতা দূর করে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন,‘আজ আমি আপনাদের সামনে আরো কয়েকটি ঘোষণা দিতে চাই। অচিরেই আমরা সুনামগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় পাবো। বেশি দিন দেরি নেই। এই নির্বাচনের পর পর আমি কথা দিচ্ছি আপনাদেরকে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে হাত দিতে পারবো। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় কৃষি ইন্সস্টিটিউট, ভেটেনারী ইন্সস্টিটিউটের কাজে আমি নির্বাচনের পর হাত দিবো। এতোদিন সুনামগঞ্জ অবহেলিত ছিলো। আমরা আর অবহেলার শিকার থাকবো না। পরবর্তিতে আমরা এখান থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন করবো। এটা সম্ভব শেখ হাসিনার পক্ষে। এজন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে আমাদের এলাকার স্বার্থে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুনামগঞ্জে পাঁচটি আসন। আমরা স্বাধীনতার সময় সকল আসন বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলাম। তাই আজকে উন্নয়নের সময় আগামী নির্বাচনে আমরা জেলার সকল আসন নেত্রীকে উপহার দেবো। আমি আপনাদের পক্ষে, সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষে নেত্রীকে বলবো সংগ্রামে, সাফল্যে আমরা শেখ হাসিনার সাথে থাকবো। কারণ তাঁর কোন বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে এই কাজটা হয়েছে তাতে অনেকে সহযোগিতা করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য দেলোয়ার বখত এবং সুনামগঞ্জের সন্তান ও তরুণ উদ্যোক্তা শিল্পপতি শ্যামল রায় অন্যতম। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। শ্যামল গত এক দেড় বছর যাবত আমার সঙ্গে থেকেছে, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছে, চিঠি নিয়ে গেছে, চিঠি নিয়ে এসেছে। নিজের পকেটের টাকা এবং সময় খরচ করে এই কাজে সহযোগিতা করেছে।’
প্রসঙ্গত. গত ৪ নভেম্বর অর্থনৈতিক পরিষদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ১০৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অবকাঠামো নির্মাণের পর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হবে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের মদনপুর এলাকায় ৩৫ একর জমির ওপর এই প্রতিষ্ঠান হবে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আনন্দ শোভাযাত্রায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ধূর্জটি কুমার বসু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াত উন নবী, কানন দেবনাথ, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম, পিপি নারী-শিশু অ্যাড. নান্টু রায়, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ, জেলা কৃষক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তহুর আলী, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা তেরাব আলী, আসাদ মিয়া, আবুল হাসনাত, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালরাচাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল, শিক্ষিকা আল্পনা পুরকায়স্থ, সংস্কৃতিকর্মী প্রদীপ পাল নিতাই, সেবুল বখত, মঞ্জু তালুকদার, অঞ্জন চৌধুরী প্রমুখ।
এছাড়া আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় যুব সমাজ, জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীসহ বিশিষ্টজনেরা শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন।