আঙুলের ছাপ সংগ্রহের মত অপরাধের মূল উৎস খুঁজে বের করতে হবে

সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ঢুলপশি গ্রামের জনৈক মজর আলী কর্তৃক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আঙুলের ছাপ নিয়ে টাকা দেয়ার বিষয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেটি উদ্বেগজনক। সংবাদে পরিবেশিত তথ্য হতে জানা যায় মজর আলীর নিয়োজিত লোক আশ-পাশের গ্রামগুলো থেকে লোকজন সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর ছাপ নেয়া হয়, পরে ছাপদানকারীদের ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি রেখে জনপ্রতি ৫০-১০০/-টাকা দেয়া হয়। ইতোমধ্যে আশপাশের গ্রামের অনেকের আঙুলের ছাপ ও আইডি নিয়ে টাকা দেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন স্থানীয়রা। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের অন্তত দুইজন নির্বাচিত মেম্বারও বিষয়টি জানেন। কিন্তু মজর আলী কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে টাকার বিনিময়ে মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়ে টাকা দিচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। যারা ছাপ দিয়ে টাকা নিয়েছেন তারাও এর কারণ বলতে পারেন না। মজর আলী সরকার নিয়োজিত কোন লোক নন। তিনি যে অসৎ উদ্দেশ্য তাড়িত হয়েই টাকার বিনিময়ে মানুষের আঙুলের ছাপ নিচ্ছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি নিশ্চয়ই এসব আঙুলের ছাপ ও আইডি কার্ড অসৎ কোন কাজেই ব্যবহার করবেন। অথবা এমন হতে পারে যে, তিনি অন্য কোন অপরাধী পক্ষের হয়ে এই কাজটি করে দিচ্ছেন। আমরা জানি, এখন দেশে বহুবিধ কাজে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। মোবাইল সিম সংগ্রহ করতে এখন ন্যাশনাল আইডি ও আঙুলের ছাপ নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অবৈধ পন্থায় এখন কোন মোবাইল সিম সংগ্রহ করার সুযোগ নাই। অথচ সমাজে বহু অবৈধ সিমের অস্তিত্ব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকা-ে এসব সিম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অপরাধকর্মে নিয়োজিত সিমগুলো এরকম আইডি দিয়েই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। অবৈধ হুন্ডি ও ভিওআইপি ব্যবসায়ও অবৈধ সিম ব্যবহার করার কথা আমরা জানি। মজর আলী এরকম কোন অপরাধীচক্রের হয়ে নিরিহ গ্রামবাসীকে সামান্য টাকা দিয়ে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে কিনা সেটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির খতিয়ে দেখা উচিৎ।
আমরা মনে করি মজর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সকল তথ্য জানা যাবে। এজন্য সর্বাগ্রে দরকার তাকে আটক করা। মজর আলীর মাধ্যমে এই চক্রের পালের গোদাদের খবরও জানা যাবে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করার কোন সুযোগ নেই। আমাদের গ্রামের সহজ সরল মানুষরা তেমন করে ঘোরপ্যাঁচ বেশি বুঝেন না। এই সহজ সরল মানুষদের আঙুলের ছাপ ও আইডি ব্যবহার করে যে অপরাধই করা হবে, তাতে তাদের ভবিষ্যতে ফেঁসে যাওয়ার আশংকা বিদ্যমান। সামান্য টাকার বিনিময়ে মজর আলীরা গ্রামের মানুষের কত বড় সর্বনাশ করে চলেছে সম্ভবত বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে তার নিজেরও কোন ধারণা নেই। দেশে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। মোবাইলে হুমকি, চাঁদা দাবি, বিকাশ হিসাবের টাকা সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি অপকর্মের খবর প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশেই ঘটতে দেখি। মজর আলীর সংগ্রহ করা আঙুলের ছাপ ও আইডিও এমন অপরাধকর্মেই ব্যবহার করা হবে। সুতরাং বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই এই অপকর্মটি দ্রুত বন্ধ তথা এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনি আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।