‘আজীবন বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন বরুণ রায়’

স্টাফ রিপোর্টার
‘আমি স্বপ্ন দেখি বরুণ রায়ের আদর্শ একদিন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। মানুষ জানবে তিনি কি করে গেছেন। তিনি সমাজের নারী পুরুষের সমঅধিকারের জন্য কাজ করেছেন। আজীবন কাজ করেছেন মেহনতি ও বঞ্চিত মানুষের জন্য। বরুণ রায়কে আমি ধ্রুবতারার মতো কল্পনা করি। তাঁর আদর্শ নিয়ে আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের মধ্যে মনুষত্ববোধ জাগ্রত হবে, আমরা মানুষের মতো মানুষ হবো। আপনারা যদি বরুণ রায়কে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি নিজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিণত হবেন। এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য, সর্বজন শ্রদ্ধেয় কমরেড প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়) এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য। জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালি চৌধুরী’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কমরেড প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়) এর সহধর্মিনী এবং জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়, জেলা সিপিবি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি নির্মল ভট্টাচার্য, লেখক সুখেন্দু সেন, বরুণ রায় স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, প্রাক্তন শিক্ষক মানব চৌধুরী, জেলা ঊদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি সঞ্চিতা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শরীফা আশ্রাফী প্রমুখ। আলোচনা সভার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।
প্রসঙ্গত, কমরেড প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়) এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৮, ৯ এবং ১০ নভেম্বর প্রতিদিন বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার মুক্তমঞ্চে ব্যাপক কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ৮ নভেম্বর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৯ নভেম্বর বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা, কমরেড বরুণ রায়ের জীবন দর্শন অবলম্বনে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১০ নভেম্বর শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, জন্মশত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।