আজ থেকে শহরে ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ

বিন্দু তালুকদার
উচ্চ আদালতের নির্দেশে আজ রবিবার থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ভেতরে বৈদ্যুতিক ব্যাটারি চালিত আটোরিকশা (ইজিবাইক) চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে যাত্রীদের চলাচলে শহরে ৩০০ সিএনজি গাড়ি চলাচল করবে। সিএনজি ভাড়া আগের ইজিবাইকের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরের অভ্যন্তরীণ স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সিএনজি দিতে রাজী হয়েছেন জেলা লেগুনা সিএনজি মালিক সমিতি।
উচ্চ আদালতের (হাই কোর্ট) নির্দেশে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে ঐক্যমত হয়েছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইজিবাইক শহরের ভেতরে চলাচল বন্ধ রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে শনিবার দিনভর মাইকিং করা হয়েছে। আজ রবিবারও পুরো শহরের মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হবে। জানা যায়, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) এর অনুমোদন ব্যতিত যান (ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা) চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) একটি রিট করেন শহরের রিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান পীর। রিট পিটিশন নাম্বার-১৭০৪৪/২০১৭। উচ্চ আদালত ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে সুনামগঞ্জ শহরে বিআরটিএ-এর অনুমোদন ব্যতিত যান চলাচল বন্ধের আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। পরে বাদী পক্ষের আইনজীবী সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কেন আদালত অবমাননার মোকদ্দমা দায়ের হবে না জানতে চাওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে পৌরসভার মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্যোগ নেন শহরের ইজিবাইক বন্ধের।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন,‘আদালতের আদেশ সবাইকেই মানতে হয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই উপায় না পেয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আজ (রবিবার) থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ভেতরে বৈদ্যুতিক ব্যাটারি চালিত আটোরিকশা (ইজিবাইক) চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃংখলা সভা, শহরের সুধীজনদের নিয়ে মতবিনিময়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির সাথেও পৃথকভাবে আলোচনা হয়েছে। ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে আদালতের আদেশের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তাছাড়া অন্য সবাই এই সিদ্ধান্তে ঐক্যমত পোষণ করে মতামত দিয়েছেন। ’
পৌরসভার মেয়র আরও বলেন,‘ ইজিবাইক বন্ধ করার পর যাত্রীদের যাতে ভোগান্তি না হয় সেজন্য জেলা লেগুনা-সিএনজি মালিক সমিতির সাথে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে। তারা কথা দিয়েছেন শহরের যাত্রীদের সুবিধার্থে ৩০০ সিএনজি গাড়ি তারা দিবেন। ভাড়া ইজিবাইকের ন্যায় আদায় করা হবে। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে শহরে প্রবেশ করা ১৫টি সিএনজি কালীবাড়ি মোড়ে ও উত্তর ও পূর্ব দিক থেকে আসা ১৫ টি গাড়ি থানার কাছের মোড়ে অবস্থান করবে। তবে চলমান ৩০০ সিএনজি বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করবে। ’