আজ ধামাইলের জনক রাধারমণ দত্তের ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার
‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে/ কিংবা জবা কুসুম সন্ধ্যামালী আনরে তুলিয়া মনোরঙ্গে সাজাও কুঞ্জ সব সখি মিলিয়া, মুর্শিদ বলি নৌকা ছাড়ো তুফান দেখি ভয় করিও না, মুর্শিদ নামে ভাসালে তরী অকূলে ডুবিবে না / দেখলাম দেশের এই দুর্দশা, ঘরে ঘরে চুরের বাসা’ এমন গান শুনলেই বুঝা যাবে রাধারমণ দত্তের সংগীত বিচিত্র বিষয়ে পরিপূর্ণ। রাজবৈদ্য চক্রপাণি দত্তের অধস্তন পুরুষেরা শ্রীহট্টের প্রাচীন সামন্ত বংশ। ১৮৩৩ সালে এই বংশের প্রভাকর দত্তের দ্বাদশ পুরুষে জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামে দেশের লোক সংষ্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র গীতিকবি রাধারমণ দত্তের জন্ম। রাধারমণের পিতা রাধামাধব পরম প-িত ও অশেষ গুণের অধিকারী ছিলেন। পিতার সংগীত ও সাহিত্য সাধনা রাধারমণকে প্রভাবিত করে। কালক্রমে তিনি একজন স্বভাবকবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯১৫ সালের ১০ নভেম্বর ২৬ কার্তিক ৮৩ বছরে বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকী আসলেই ধামাইলের এই জনককে স্মরণ করেন শিল্পী ভক্তরা। বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত একাধারে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী ছিলেন। বিভিন্ন সংগ্রাহকদের মতে, রাধারমণে গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও উপরে। তাঁর গানে প্রার্থনা, আত্মতত্ব, দেহতত্ব এবং পরমাত্মা বিষয়ক সঙ্গীত ছাড়াও তাঁর স্বদেশ প্রেমেরও অনেক গান রয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম হচ্ছে ধামাইল গান। রাধারমণের গানে শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ছিলা না। আল্লাহ্- ঈশ্বরে যেমন তিনি পার্থক্য দেখেন নি, গুরু এবং মুর্শিদ শব্দের পার্থক্য দেখান নি। তাঁর গানের সুরে ভূবন মাতোয়ারা হলেও রাধারমন দত্তের নিজের ভূ-সম্পতি অর্পিত হওয়ায় রাধারমণ গবেষক ও ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
রাধারমণ দত্তের গানের চর্চা বাড়াতে রাধারমণের জন্মভিটায় রাধারমণ কমপ্লেক্স দ্রুত নির্মাণের দাবি রয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীদের।
জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল জানালেন রাধারমণের ১০৫০ টি গান ডিজিটাল পদ্ধতি সংরক্ষণ হয়েছে। তাঁর জন্মভিটায় রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। এই প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি’র কাজ শুরু হয়েছে।
রাধারমণের জন্মদিনকে ঘিরে জগন্নাথপুর রাধারমণ সমাজকল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে নানা আয়োজন করা হয়েছে।