আজ পহেলা বৈশাখ

স্টাফ রিপোর্টার
‘বোশেখ শেষে বালুচরের বোরো ধানের থান,
সোনায় সোনা মেলিয়ে দিয়ে নিয়েছে কেড়ে প্রাণ।’
বাঙালির ব্যক্তি জীবন এবং জাতীয় জীবনে নববর্ষের প্রভাব অপরিসীম। ব্যবসায়-বাণিজ্যে, কৃষি ও জীবন যাত্রায়, সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে নববর্ষ মিশে আছে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। তাই আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, লোকাচার, উৎসব-পার্বন কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কৃষি নির্ভর এ দেশের মানুষ বৈশাখ মাসকেই তাদের ফসল তোলার মাস বলে গ্রহণ করেছেন। এই প্রভাব শুরু হয়েছিল স¤্রাট আকবরের শাসনামলের সূচনায়,বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের পর থেকে।
১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে।
পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে ১লা বৈশাখকে বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন হিসাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যারা বেচাকেনার হিসাব নিকাশ রাখেন, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তারা পালন করেন ‘শুভ হালখাতা’ উৎসব। বৈশাখের শুরুতেই পুরোনো হিসাব চুকিয়ে মিষ্টি মুখের মাধ্যমে নতুন হিসাব চালু করা হয়।
পহেলা বৈশাখ বাংলা বনবর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ কালেক্টরেট ভবন থেকে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পর্যন্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা, সকাল ১০টায় লাটি খেলা, সাপের খেলা সহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। এরপর শিশু কিশোরদের প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে পুরস্কার বিতরণ, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন, বিকাল ৩টায় শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকাল ৪টায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও আগামীকাল সোমবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব, হাঁড়িভাঙ্গা, হা ডু ডু ও ফানুস উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
৩ বৈশাখ সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে কারাবন্দীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে ‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবি কিরণে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সুনামগঞ্জ জেলা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা। সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করবেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাড, দিগি¦জয় শর্ম্মা চৌধুরী। সাড়ে ১০টায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন আয়োজনে দিনটি পালিত হবে।