আজ মহামানবের জন্মদিন, তুমি চির-জাগরূক থাকো কাল নিরবধি মহাকালে

এক মহামানবের জন্মদিন আজ। এমন মহামানবের জন্য বাঙালি জাতি অপেক্ষায় ছিল হাজার বছর যাবৎ। সূর্যালোক যেমন যাবতীয় অন্ধকার বিদীর্ণ করে দেয় তেমনি তিনি এই জাতির চিরকালের পরাধীনতার কলঙ্ক তিলক মুছে দিয়েছিলেন। তিনি ভয়কে জয় করে বুক চিতিয়ে দিয়েছিলেন একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ঠিকানা এনে দিতে। তাঁর তর্জনী কথা বলত। তাঁর মুখের অমৃতভাষণ পীড়িত বাঙালির মনে বীনাযন্ত্রের তান তুলত। তাঁর আহ্বান সকলের মনে আগুন জ্বেলে দিত। আর এই আগুনেই পুড়ে গিয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের পাকিস্তান। পৃথিবীর বুকে স্থান করে নিয়েছিল একটি জাতি-রাষ্ট্রÑ বাংলাদেশ যার নাম, সবুজ জমিনের মধ্যখানে লাল সূর্য যার পরিচয়। বিশ্বকবি যে সোনার বাংলার রূপ-গুণ বর্ণনা করে আপ্লুত হয়েছিলেন সেই আবেগ ধারণ করেছিলেন তিনি। বিদ্রোহীকবি যে শিকল ভাঙার গান গেয়ে উঠেছিলেন সেই দ্রোহ ধারণ করেছিলেন তিনি। জীবনানন্দের রূপসি বাংলার শ্যামল ¯িœগ্ধতায় শুচিশুভ্র ছিলেন তিনি। তিনি জসিম উদ্দিনের পল্লী বাংলার সহজিয়া বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি জয়নুল-কামরুল-সুলতানের রেখাগুলোকে নিজের পেশল হাতের অলঙ্কার করেছিলেন। লালন-হাছনের মানবতার বর্ম ছিল তার অঙ্গভূষণ। তিনি বাঙালির যাবতীয় সদগুণ একা ধারণ করে হয়ে উঠেছিলেন এক মহাবাঙালি। তিনি বঙ্গবন্ধু। বাঙালি জাতি ভালোবাসায় সিক্ত করেছিল নেতাকে এই নামে। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। টুঙ্গিপাড়ার বাইগার নদী তীর থেকে উঠে এসে প্রদীপ্ত করেছিলেন পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রহ্মপুত্র সুরমা তট। এই দীপশিখা মিশে গিয়েছিলো বঙ্গোপসাগরের সীমাহীন জলরাশির অসীম উদারতার মাঝে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী আজ। তিনি বাঙালির জাতির পিতা। হে পিতা, অন্তরের গহীন থেকে উদ্গত শ্রদ্ধার অর্ঘ্য গ্রহণ করো এই পবিত্র দিনে।
দেখ, পুরো দেশ আজ রঙে উজ্জ্বল, প্রাণময়তায় উচ্ছ্বল, আলোয় বর্ণিল, আবেগে দুর্মর, সম্ভাবনায় দ্যুতিময়। তুমি নেই। কিছু বিশ্বাসঘাতক তোমাকে হত্যা করে ভেবেছিল মুছে দিবে তোমার নাম নিশানা-আদর্শ-নীতিবোধ। ওরা জানে না, বাঙালি মহাশ্মশানেও জীবনের আলো জ্বালতে পারে। তোমার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেখÑ তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ কতটা জেগে উঠেছে। দেখ, তোমার দুঃখী বাঙালি আর কেউ আজ অনাহারে থাকে না, কেউ বস্ত্রহীন নয়। এই বছর শেষে কেউ থাকবে না গৃহহীন। শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত আজ এই বাংলার প্রতিটি শিশু কিশোর। আজ প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে। যমুনার পর পদ্মায় সেতু হতে চলেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে তোমার মানসপ্রসূত বাংলাদেশে। এই ই তো তুমি চেয়েছিলে। তোমাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানোর প্রকৃষ্ট উপায় তো এটাই। আমরা আজ মিছে তোমার বন্দনা করছি না। কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থেকেই তোমাকে স্মরণের মহোৎসবে শামিল হয়েছি। আমাদের এই কর্তব্যনিষ্ঠায় উৎসারিত শ্রদ্ধাঞ্জলি গ্রহণ কর হে জাতির জনক।
তুমি যে সম্প্রীতির পৃথিবী দেখতে ছিলে উন্মুখ, যে সৌহার্দ্যময় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগাতে ছিলে নিরন্তর সচেষ্ট; তোমার কন্যা আজ সেরকমই এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর পেছনে আমরা সকলে আজ এক সারিতে। যে দেশটি তুমি দিয়ে গেছ আমাদের, সেই দেশটিকে পরম প্রাপ্তি মনে করে আমরা এক মহৎ স্বদেশ নির্মাণে অক্লান্ত থাকব, শততম জন্মদিনে এ হলো আমাদের তোমার কাছে দেয়া অঙ্গীকার। তুমি হাস। তুমি উদ্ভাসিত হও প্রতি হৃদয়ে। তুমি চিরজাগরূক থাক কাল নিরবধি মহাকালে।