আজ ১৮ ইউনিয়নে ভোট

সু.খবর রিপোর্ট
সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন আজ বুধবার। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এরমধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ২৪, শাল্লা উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ১৭ এবং ধর্মপাশা উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৫৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এদিকে শাল্লা উপজেলার ৪ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৭১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৯৭ জন, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৫৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২০১ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
তিনটি উপজেলায়ই নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্বাচনী মালামাল গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টরা যার-যার গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ষ্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়মিত মোবিং করবে প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্রে কেন্দ্রে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে ধর্মপাশার ১০০, শাল্লার ৪০ ও জামালগঞ্জের ৪২ কেন্দ্রে। এর আগে গত সোমবার রাত ৮ টায় প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়।
ধর্মপাশা উপজেলায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জামালগঞ্জ উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৮২ হাজার ২৪৪ জন। এদিকে শাল্লা উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৮৪ হাজার ৮৭৫ জন।
এই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৩ টিতে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী বনাম দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। শুধু ১টিতে স্বতন্দ্রের মোড়কে নির্বাচনে থাকা বিএনপি প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর তুমুল ভোটযুদ্ধ হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
শাল্লা উপজেলার ১ নং আটগাঁও ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির নেতা আব্দুলাহ আল নোমান (আনারস) ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মোহাম্মদ এমদাদুল হক’র (নৌকা) মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ২ নং হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত রনজিৎ কুমার দাস (নৌকা) ও বিদ্রোহী প্রার্থী সুবল চন্দ্র দাসের (আনারস) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) কাজল কান্তি চৌধুরী এবং বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুর মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে। ৪ নং শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা) আব্দুস সাত্তার এবং দলের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) আবুল লেইছ চৌধুরীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বেহেলীতে ৭ জন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নে ৫ জন, সাচনা বাজার ইউনিয়নে ৬ জন ও ভীমখালী ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ মোট ২২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে ১ নম্বর বেহেলী ইউনিয়নে সুব্রত সামন্ত সরকার (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার (ঢোল), ফয়েজ আহমদ হাবলু (দুটি পাতা), অজিত রায় (মোটর সাইকেল), মো. সারুয়ার হোসেন (ঘোড়া), মো. মাসুদ আলী মকসুদ (আনারস) ও মো. আসাদুর রহমান (চশমা), ৩ নম্বর ফেনারবাঁক ইউনিয়নে কাজল তালুকদার (নৌকা), মো. মতিউর রহমান (চশমা), জুলফিকার চৌধুরী রানা (মোটর সাইকেল), মো. নূরু মিয়া (ঘোড়া) ও পিযুস কান্তি তালুকদার (আনারস), ৪ নম্বর সাচনা বাজার ইউনিয়নে সায়েম পাঠান (নৌকা), মো. মাসুক মিয়া (ঘোড়া), মো. ইকবাল হাসান (চশমা), মো. আলী নূর আল উজ্জ্বল (লাঙ্গল), মো. সেলিম মিয়া (মোটর সাইকেল) ও বিদ্যারতন বিশ্বাস (অটোরিক্সা) এবং ৫ নম্বর ভীমখালী ইউনিয়নে আক্তারুজ্জামান শাহ (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া (চশমা), আক্তারুজ্জামান তালুকদার (ঘোড়া) ও মো. আজিজুর রহমান (আনারস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বললেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ১৮ ইউনিয়নকে দেখভাল করবেন ৮ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কেন্দ্রের নির্ধারিত ফোর্স ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি’র মোবাইল টিম এবং স্টাইকিং ফোর্স প্রতিটি ইউনিয়নে কাজ করবে।