আতঙ্কে মানুষ বাড়ি ছাড়লেও আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে কম

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা বাড়ি ছাড়ছে, কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে না। আশ্রয় কেন্দ্রের বদলে মানুষ আত্মীয়-স্বজন-শুভার্থীদের বাড়িতে যাচ্ছে। পুরো জেলা জুড়েই এমন অবস্থা।
সুনামগঞ্জ শহরতলির গৌরারং ইউনিয়নের আহমদাবাজের বাসিন্দা মিনারা খাতুনের ঘরে হাঁটু সমান পানি। ২ দিন কষ্ট করে কোনভাবে ঘরেই কাটিয়েছেন। শুক্রবার থেকে ৩ মেয়ে, ৪ ছেলে, ছেলের বউ ও স্বামী কাচা মিয়াসহ গিয়ে ওঠেছেন গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা (সাবেক ডিসি) জিল্লুর রহমানের বাড়িতে।
মিনারা খাতুন বলেন,‘ডিসি সাবের বাড়িত ওঠছি, আশ্রয় কেন্দ্র অনেক দূরে, আর মেয়ে-ছেলেরে লইয়া হিকানু যাইমু কেমনে। তারা (জিল্লুর রহমানের বাড়ি’র লোকজন) খালি আমরারে নায় গাঁওয়ের ২০ ঘররে বাড়িত যেগা দিছইন। খাওয়ানি-দাওয়ানিরও কিছু ব্যবস্থা কররা। আজকে চেয়ারম্যান ফুল মিয়া সাবেও আইয়া চিড়া দিয়া গেছইন।’
আশ্রয় কেন্দ্রে গেলেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মিনারা খাতুন জানালেন, আশ্রয় কেন্দ্রে মেয়ে-ছেলে নিয়ে থাকা সমস্যা। এছাড়া বাড়ি থেকে অনেক দূরে আশ্রয় কেন্দ্র। এখানে থাকলে বাড়ি’র খোঁজ নিতে পারেন তারা।
একই গ্রামের আনোয়ার আলী ও দুর্বলনেছা’র পরিবারও আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে আত্মীয় বাড়ি গিয়ে ওঠেছেন।
গৌরারং ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া জানালেন, তারা আশ্রয় কেন্দ্র খোলেছেন, কিন্তু মানুষ ওখানে না গিয়ে বিভিন্ন আত্মীয় বাড়িতে ওঠেছে। তাঁর (ফুল মিয়ার) ব্যক্তিগত একটি গোদাম ঘরেও ২৩ পরিবার গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হক জানালেন, তাঁর ইউনিয়নের ৫০০ পরিবারের ঘরে পানি ওঠেছে। এরা কষ্ট করে ঘরেই এখনো আছে।
বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ জানালেন, বিশ্বম্ভরপুরে ঘরে পানি ওঠেছে কয়েক হাজার পরিবারের। কিন্তু শুক্রবার ৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ৬৫ পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। এই ৬৫ পরিবারই আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠেছে।
বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বলেন, পানি যেভাবে ওঠেছিল, আরও দুই দিন সেভাবে থাকলে, হাজারো পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হতো। পানি কম সময়ে অতিমাত্রায় ছিল, মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়ে প্রথম আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি গিয়ে ওঠেছিল, ওখান থেকেই কেউ বাড়িতে গেছে, কেউ ওখানেই অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেই আছে এখনো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ মোহনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশের বন্যার্তদের দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি জানালেন, মানুষ বাড়ি ছাড়ছে, আতঙ্কও আছে। কিন্তু প্রথমেই আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়তে চাচ্ছে না। প্রথমে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেই ওঠছে। বন্যা দীর্ঘয়িত হলে হয়তোবা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারে।
বিকালে সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানালেন, নদীর পানি বিকাল ৩ টায় সামান্য বেড়েছে। বিপদ সীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু সিলেটে এবং আসামে বৃষ্টি হচ্ছে তাই সুনামগঞ্জে পানি কিছুটা বাড়তে পারে।