আত্মবিশ্বাস হারায়নি টাইগাররা

সু,খবর ডেস্ক
প্রথমবারে রিশভ পান্তের ভুলে রক্ষা হয় লিটন দাসের, তবে দ্বিতীয়বারে ঠিকই কাটা পড়েন রান আউটে। বৃহস্পতিবার রাজকোটে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি২০’তে – এএফপি
মোমেন্টাম ছিল বাংলাদেশের হাতে। গতকাল তা কেড়ে নিল ভারত। স্বাগতিক হিসেবে দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে রাজকোট থেকে নাগপুরে যেতে পারছে তারা। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচটায় ফেভারিট হিসেবে সব দিক থেকেই সুবিধা নিয়ে খেলতে পারবে। বাংলাদেশ দল খুব বেশি পিছিয়ে পড়েছে, তেমনটা নয়। সিরিজ জয়ের সম্ভাবনার দ্বার খোলা আছে টাইগারদের জন্যও। মাহমুদুল্লাহ ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন, রাজকোটে হারলেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তারা। সফল সমাপ্তির রেখায় পৌঁছাতে লড়াই করবেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মানছেন, নাগপুরে স্বাগতিকরাই থাকবে লিডিং পজিশনে।
বাংলাদেশকে ভোগাতে পারত টস হার। ওপেনিং জুটি দুর্দান্ত ব্যাটিং করে তা হতে দেয়নি। লিটন কুমার দাস ও নাঈম শেখ জুটিতে ৬০ রানের জোগান দেন। কিন্তু ৭ থেকে ১৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে কাঙ্ক্ষিত রান ওঠেনি। শেষ পাঁচ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনরা ছিলেন স্লো। এ জন্য সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামের গড় রানের চেয়েও ২০ থেকে ২২ রান পেছনে ছিল বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহও স্বীকার করলেন, স্লগ ওভার ব্যাটসম্যানরা পর্যাপ্ত রান দিতে পারেননি, ‘শেষ পাঁচ ওভারে যেভাবে খেলা দরকার ছিল, ব্যাটসম্যানরা তা করতে পারেননি। হাতে উইকেট ছিল, তবুও তারা শটস খেলেননি। ঝুঁকিটা তারা নিলে ভালো কিছু হলেও হতে পারত। এ ছাড়া আমি শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলে আরও কিছু রান বেশি হতো। আমি বলব, মিডল এবং শেষের ওভারগুলোতে প্রত্যাশিত রান তোলা সম্ভব হয়নি। এই জায়গাটায় আমরা পিছিয়ে গেছি।’
দিল্লিতে হারের পর রাজকোটে জিততে মরিয়া ছিল ভারত। সিরিজে সমতা আনতে সতীর্থদের প্রতিটি বিভাগে ভালো ক্রিকেট খেলার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। টিম রুলস মেনে গতকাল প্রতিটি বিভাগেই ছন্দ দেখায় তারা। বোলিংয়ে দারুণ উন্নতি দেখায় তারা। যে কারণে বাংলাদেশকে ৩৮টি ডট বল খেলতে বাধ্য করে স্বাগতিক শিবির। বাউন্ডারি বড় থাকায় বল সীমানায় গেছে কম। ২০ ওভার খেলে ছয় মেরেছে একটি। সামর্থ্যের ঘাটতি ফুটে ওঠে এতে। যদিও এই দাবির বিপক্ষে
মাহমুদুল্লাহ, ‘টি২০-তে ৪০টি বল ডট গেলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ থাকে না। আমরা সেখানে ডট বল দুটি কম করেছি। আর বড় শট খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে। যে কোনো কারণেই আজ সেটা হয়নি। আশা করি, পরের ম্যাচে হবে।’
তবে কন্ডিশন বিচারে আজ টিম কম্বিনেশন ভালো হয়নি বলে দাবি বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘কম্বিনেশনে একটু সমস্যা ছিল। দেখেন লেগস্পিনার বিপ্লব খুব ভালো করেছে। পেস বোলিংয়ে একটু ঘাটতি ছিল। বোলারদের জন্য যথেষ্ট রানও দিতে পারিনি আমরা। এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে করে নাগপুরে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব হয়।’
সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল নিখাদ ব্যাটিং উইকেট। বাউন্ডারি ছিল দিল্লির চেয়ে বড়। এ ধরনের মাঠে নিয়মিতই টি২০ খেলে সফল ভারত। সিরিজ সমতার ম্যাচে কন্ডিশনের পুরো সুবিধা কাজে লেগেছে বলে জানান ওয়াশিংটন সুন্দর। তিনি জানান, জিততে হলে ২৮০ রান করতে হতো সফরকারীদের। মাহমুদুল্লাহরা ২০ ওভারে ১৫৩ রান করার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ভারত। ওয়াশিংটনের মতে, ‘১৫৪ রানের টার্গেট পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত ছিলাম। এটা ঠিক, তারা বোলিং ভালো করেছে, কিন্তু স্কোরবোর্ডে ডিফেন্ড করার জন্য পর্যাপ্ত রান ছিল না। আর রোহিত ভাই এমন ব্যাট করার পর কিছু করার থাকে না। আমরা দারুণভাবে ম্যাচটা জিতেছি। আশা করি, সিরিজ জয়ের ম্যাচেও এভাবে খেলতে পারব। কারণ, নাগপুরেও একই ধরনের উইকেট এবং বাউন্ডারি পাব।’ ১০ নভেম্বর নাগপুরে হবে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি২০।
সূত্র: সমকাল