আদাং বেড়িবাঁধ দখল করে বালু ডাম্পিং

আকরাম উদ্দিন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের আদাং, পুরান মথুরকান্দি, পশ্চিম ডলুরা, কোচগাঁও, রতারগাঁও এলাকায় হাওররক্ষা বেড়িবাঁধের উপর বালু-পাথর ডাম্পিং করে রাখায় বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। এলাকাবাসী’র চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে এই বালু তুলে উপরে ডাম্পিং করা হয়েছে। এই কারণে আগামী মৌসুমে আগাম বন্যায় এই বাঁধ হুমকিতে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সলুকাবাদ ইউনিয়নের ফসলি জমি, একাধিক গ্রাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাহাড়ি ঢল থেকে বাঁচাতে আদাং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেয় সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড। আদাং গ্রামের পাশে চলতি নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ দেয়ায় পাহাড়ি ঢল থেকে পুরান মথুরকান্দি, কোচগাঁও, রতারগাঁও, রতারগাঁও স্কুল ও মাদ্রাসাসহ বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি রক্ষা পেয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দেশ স্বাধীনের পর একাধিকবার আদাং এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলেও পাহাড়ি ঢলের প্রবল বেগে তা ভেঙে যেতো। পাহাড়ি ঢল আদাং গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতো। সর্বশেষ ২০০৪ সালের দিকে সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে দেয় আদাং এলাকায় চলতি নদীরপাড়ে এই বেড়িবাঁধ।
বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর থেকে এলাকাবাসী পায়ে হেঁটে এবং মটর বাইকে এই বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ড্রেজার দিয়ে এই এলাকায় বালু-পাথর উত্তোলনের প্রবণতা শুরু হয়। সম্প্রতি কিছু বালু-পাথর ব্যবসায়ী ড্রেজার দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করে বেড়িবাঁধের উপর রাখতে শুরু করেছে। একারণে বাঁধ হুমকিতে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বাঁধের উপর পাহাড়সম ডাম্পিং করা বালু’র কারণে হেঁটে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠছে।
বেড়িবাঁধের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, যারা বালু-পাথর ডাম্পিং করেছেন, তাদেরকে নিষেধ করেছি কয়েকবার। তারা আমাদের বাধা মানেন নি। এরা সকলেই প্রভাবশালী, এজন্য আমরা জোর করে সরাতেও পারি নি।
বালু-পাথর ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানালেন, বেড়িবাঁধ ছাড়াও বালু-পাথর ডাম্পিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। বেড়িবাঁধ দখল করে বালু পাথর ডাম্পিং করা উচিৎ নয়।
মুসলিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী কামাল মিয়া বলেন,‘আমি বেড়িবাঁধ ব্যবহার করে বালু-পাথর স্তুপ করে রেখেছি, আরও অনেকেই রেখেছেন। কোন ক্ষতিতো হচ্ছে না।
সলুকাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তাহের বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সড়ক কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের জন্য বেল্ট স্থাপন করতে নিষেধ করেছি। আমার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের বার বার বলেছি, থানায় জানিয়েছি। আমার কথা কেউ শুনে না।
সুনামগঞ্জ জেলা বারকী শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাছির উদ্দিন জানালেন, এই বাঁধে বালু ডাম্পিং করা হয়েছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করে। একারণে বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকও বেকার হয়েছে। এই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বম্ভরপুরের বিশাল খরচার হাওরেরও সমস্যা হবে।
বিশ্বম্ভরপুর বালু-পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মরম আলী বলেন, বেড়িবাঁধ কেটে ডাম্পিং করার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আদাং বাঁধটি মূলত জনবসতি রক্ষার জন্য করা হয়ে থাকে। এখানে বাঁধের গোড়া থেকে কেউ বালু উত্তোলন করেছে বলে আমার জানা নেই। আমরা একজন প্রকৌশলী পাঠিয়ে সরেজমিনে যাচাই করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।