আদালতের যুগান্তকারী রায়ে খুশি এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ দিরাইবাসী তাৎক্ষণিক থানা ঘেরাওসহ দিরাই পৌর শহরে বিক্ষোভ করে ঘটনার বিচার দাবি করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আসামী চালক শহিদকে আদালত পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মেয়েটির পরিবারসহ এলাকাবাসী।
রাায় শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দিরাই চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাসিন্ধু দাশ বলেন, ঘটনাটি আমার গ্রাম মজশিলপুরের। প্রথমদিকে ভিকটিমের অভিভাবকরা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আদালতে বিষয়টি যাওয়ায় সুবিচার পাওয়া গেছে। দ্রুত রায় প্রদান করার জন্য মহামান্য আদালতকে শ্রদ্ধা, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এতে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পাবে।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াও গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রচার করেছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে, যে কোন অন্যায়ের প্রতি মানুষ যেনো একতাবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানায়, তাহলে অন্যায়কারীরা ভীত হবে।
মেয়ের বাবা জানালেন, স্থানীয় কাউন্সিলর আদালতের রায়ের বিষয়টি জানানোর পর মনে হয়েছে নিরীহ-গরিব মানুষও বিচার পায়। আমরা আদালতের রায়ে সন্তোষ্ট।
স্থানীয় কাউন্সিলর পঙ্কজ পুরকায়স্থ জানালেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই ঘটনার রায় শুনার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মেয়েটির বাবাসহ পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছি। এলাকাবাসী এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিত রায় বললেন, গরিব মানুষেরা সাধারণত এসব ঘটনায় আপোষ করে ফেলে। এক্ষেত্রে সেটি হয় নি। এই রায় সমাজের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ। এ ধরণের অমানবিক কাজ করতে ভবিষ্যতে যেকোন পেশার দুর্বৃত্তরা ভয় পাবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর উসমানী বলেন, ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট বিশ্বম্ভরপুর দিগেন্দ্র বর্মণ কলেজের শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সকলের মনেই দাগ কেটেছিল। কেউ অন্যায় করলে পাড় পাবে না, এই রায়ে সেটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসামীদের সাজায় আমরা অত্যন্ত খুশি।
বিশ্বম্ভরপুর দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলাংশু রায় বলেন, একটা ঘৃন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ছিলো। সেই সময় আমরা তাৎক্ষণিক মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। তৎকালীন স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন, সকলেই চেয়েছিলেন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। বিচারের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি । আজ আদালতের রায়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বস্তি পেয়েছি, অত্যন্ত খুশি হয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যেকোন দৃষ্কুতিকারী করতে চিন্তা করবে। এটা সমাজের জন্যও স্বস্তিকর রায়। এই ধরণের ঘটনা যেনো ভবিষ্যতে না ঘটে, সেজন্য- আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, সচেতন মহল, প্রত্যেক স্কুল কলেজের সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করবো আমি।
জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য্য বললেন, আমরা সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী নির্যাতন, যৌন নির্যাতন চাই না। নারীর নিরাপদে চলাচল আমরা সকলেই আশা করি। এই রকম ঘটনা নিরবে সহ্য করলে ঘটনা বাড়তে থাকবে।
তিনি বলেন, আদালতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যদি কম সময়ের মধ্যে হয়, তাহলে মানুষ আরও বেশি সজাগ ও সচেতন হয়। যার প্রেক্ষিতে ঘটনাগুলি কমতে থাকে। ২০১২ সালের ঘটনার আমরা রায় পেলাম ১০ বৎসর পরে। রায়ে আমরা খুশি, পাশাপাশি আমরা প্রত্যাশা করি- বিচার প্রক্রিয়াটা যেনো আরও কম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়। নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিচারক জাকির হোসেনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, উনার রায়ের ফলে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো যে, এই দেশে পরিবহন ব্যবহারের জন্য মেয়েদের কোন নির্দিষ্ট সময় লাগবে না। ছেলে মেয়েসহ আমরা সকলে যখন নিজের দরকার তখন বের হবো। রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দেবে। এই সাজাগুলি যত দ্রুত হয় এবং বিচার কাজ যাতে দ্রুত হয়, সে বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রত্যাশা রাখি। এই বিচার মানুষের মাঝে স্বস্তি আনবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। যাদের জন্য মামলাগুলি এই পর্যন্ত এসেছে, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।