আপনাকে অভিবাদন হে স্বপ্নদ্রষ্টা

আজ কয়েক সহ¯্র নর-নারীর অংশগ্রহণে শহরের পথ ধরে ছুটে চলা একটি আনন্দ মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনিÑ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, এমপি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খবরে খুশিতে আপ্লুত সুনামগঞ্জের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এই মিছিলের আয়োজন করেছে। আমরা জানি, বস্তুত এই অঞ্চলের সকলেই জানে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নটি প্রথম অঙ্কুরোদ্গম ঘটেছিল আপনারই পলল হৃদয়ে। নির্বাচনি প্রচারণাকালে আপনি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলপথ স্থাপনের অঙ্গীকার করেছিলেন। এর প্রথম দুইটি বাস্তবায়নের কাজ জোর কদমে এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আইনগত ভিত্তি রচিত হতে চলেছে। আপনি নানা জায়গায় বলেছেনÑ রেলপথও হবে। এই অঞ্চল থেকে অতীতে মন্ত্রিত্ব করেছেন অনেকে। তাঁদের অনেকেই ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামের অধিকারী। জাতীয় রাজনীতিতেও ছিল তাঁদের বিশেষ অবদান। ওই জাঁদরেল রাজনীতিক-মন্ত্রীরা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে এলাকার উন্নয়নে তেমন মনোযোগী হতে পারেননি। কিন্তু আপনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও নিজ এলাকাকে ভুলে যাননি। এলাকাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা, উন্নয়নের পন্থা খোঁজা ও তা বাস্তবায়ন করাÑ আপনার বহু পুরোনো অভ্যাস। আমরা জানি, আপনি তখন নিতান্তই সরকারের একজন মধ্যম সারির আমলা, সেই সময়ই আপনি চেষ্টা করতেন এলাকার উন্নয়নের। সেই সময়ে আপনি ডুংরিয়া বাজারে কৃষি ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপন করার ব্যবস্থা করে কৃষকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরে আপনি আরও বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী থেকে এখন মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু সেই যে উন্নয়ন-অভিলাষ আপনার অন্তরে প্রোথিত হয়ে গিয়েছিল তা দূর তো হয়ইনি বরং পত্রপুষ্পে বিকশিত হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে স্বতন্ত্র উপজেলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নির্বাচকম-লীর আকাক্সক্ষা পূরণের কাজ শুরু করেন। আপনি কুশিয়ারা নদীতে সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করে রাজধানীর সাথে এতদঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করে দিচ্ছেন। আপনি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়ে জাতি গঠনের ব্যবস্থাটি পাকাপোক্ত করছেন। এখন আমরা বিশ্বাস করি, আপনার এই মেয়াদেই সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলপথ সম্প্রসারিত হবে। মাননীয় মন্ত্রী, আপনার এই উন্নয়নমুখী অভিযাত্রা এই অঞ্চলের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে রাখবে। আজকের মিছিল কৃতজ্ঞ সুনামগঞ্জবাসীর সেই কর্তব্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবীর সবচাইতে বড় সত্য হলোÑ মানুষ অমর নয়। প্রকৃতির নিয়মে মানুষ একসময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষের মনের চিরন্তন আকাক্সক্ষা হল, মৃত্যুর পরও নিজের নাম অক্ষয় করে রাখা। উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে বটে কিন্তু ব্যাপক মানুষের মনে জায়গা করে নিতে হলে দরকার পড়ে সুকীর্তির। কীর্তিমানদের জাতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে স্মরণে রাখে শ্রদ্ধা-ভালবাসায়। নিজের কীর্তির মধ্য দিয়েই মহান মানুষরা কালের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অমরত্বের ছোঁয়া পায়। আমাদের স্থির বিশ্বাস, আপনি যে স্বপ্ন বোনা ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন, হাওর-ভাটির মানুষের মনে আপনি স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন চিরকাল।
প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব কী, আপনি তার পথপ্রদর্শক। নির্মোহ মনোভাব, সততা, নিরপেক্ষতা, সৃজনশীলতা, প্রগতিশীলতা সর্বোপরি একটি সংবেদনশীল হৃদয় দিয়ে আপনি ধারণ করে আছেন সুনামগঞ্জের ২৫ লক্ষ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা-স্বপ্ন-প্রত্যাশা। ভবিষ্যতে যারাই জনপ্রতিনিধিত্ব করতে আসবেন তারাই আপনার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আর যারা শিক্ষা নিবেন না তারা ঝরা পাতার মতই ঝরে পড়বেন, কেউ মনেও রাখবে না।
মাননীয় মন্ত্রী, আপনি মিছিলের মুখগুলো লক্ষ করুন। আপনি সকলের মুখের দিকে তাকান। দেখবেনÑ এক যুথবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় আজ সকলে ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য দেশোন্নয়নে নিজেকে শামিল করার। যোগ্য নেতৃত্বের আওতায় সম্ভাবনাগুলোকে প্রস্ফুটিত করার। আমরা যে হাওরের অনিন্দ্যসুন্দর শাপলা ফুলের মতো এক চিরসুন্দর অঞ্চলের অধিবাসী হতে চাই। আপনিই তো ওই স্বপ্ন দেখিয়েছেন সকলকে। আপনাকে অভিবাদন হে স্বপ্নদ্রষ্টা।