আবহাওয়ার প্রতি নজর রাখতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
১৫ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের ধান কাটার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। পানিসম্পদমন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, আবহাওয়াবিদ, কৃষি কর্মকর্তা সবারই নজর হাওরের দিকে। কৃষকরা বলছেন, ধান পাকা শুরু হয়েছে, তবে এখনই কাটার মতো ধান কেবল সেচ প্রকল্প এলাকা ছাড়া অন্য এলাকায় নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেচ প্রকল্পসহ পুরো হাওর এলাকায় এক থেকে দেড় শতাংশ জমির ধান পেকেছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা অবশ্য বলেছেন, ২ শতাংশ জমির ধান পেকেছে এবং ২৩ শতাংশ ধানের গাছে গোটা এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, ৭ ও ৮ তারিখ থেকে সুনামগঞ্জে এবং উজানে অর্থাৎ ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ আসামে বৃষ্টি হতে পারে। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা এবার হতাশাজনক নয়। গত বছর ৫ এপ্রিল সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৭.৯ সেন্টিমিটার, এবার রয়েছে ১.৮ সেন্টিমিটার।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, উজানের (চেরাপুঞ্জি, আসাম ও বরাক উপত্যকার বৃষ্টি) বৃষ্টির পানিও সুনামগঞ্জের হাওরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবার বরাক উপত্যকায় ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি হবে না। তবে সুনামগঞ্জ, চেরাপুঞ্জি ও আসামে ৭ এপ্রিল কিছু বৃষ্টি হবে। ৮ এপ্রিল ৪০ মিলিমিটারের সামান্য কম বেশি বৃষ্টি হবে সুনামগঞ্জ চেরাপুঞ্জি ও আসামে। একইভাবে ১১, ১২ ও ১৩ এপ্রিল বৃষ্টি হবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন,‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকতে থাকতেই ধান কাটা শেষ করলে ভাল হয়। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ধান ঘরে বাড়িতে আনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১.০৮ সেন্টিমিটার। গত বছর এই দিনে ছিল ৭. ৯ সেন্টিমিটার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকতে থাকতেই ধান কেটে বাড়িতে আনতে হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বুধবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউেেসর মতবিনিময় সভায় বলেছেন,‘ফসল নিয়ে জুয়া খেলা চলবে না। আগে আগে ধান কেটে ঘরে আনতে হবে। আগে পাকে এমন ধান, বিশেষ করে বিআর ২৮ জাতের ধানের চাষাবাদ করতে হবে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে আনতে পারলেই ভাল হয়।’