আমনে প্রতি কেয়ারে খরচ বেড়েছে হাজার টাকা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
বন্যায় জমিতে প্রচুর পলি পড়েছে। আমনের ফলনও ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জমিতে খরচের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি বেশি, জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় হালের ট্রাক্টরেও খরচ বেশি। বীজ রোপনের জন্য ধানের চারা (জালা) ও সার পরিবহনে ভাড়া বেশি। সারের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি। সব মিলিয়ে প্রতি কেয়ার (৩০ শতক) জমির জন্য অন্য বছরের তুলনায় হাজার টাকা বেশি খরচ এ বছর।
কৃষকরা বলছেন, ফলন ভালো হলে দু’টাকা বেশি হলেও সহ্য করা যায়। তবে কৃষকরা অন্য বছরের তুলনায় সারের দাম বেশি বললেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন ভর্তুকির কথা। তারা জানান, শুধু সারের পেছনেই সরকার প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছেন। বাজারে পর্যাপ্ত সারও আছে। ইদানিং ননইউরিয়া সার অর্থাৎ এমওপি, ডিএসপি ও টিএসপি সারের চাহিদা বাড়ছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। ব্যবসায়ীরা জানান, ইউরিয়রা সারের চাহিদা বেশি। সরকার কেজি প্রতি শুধু ইউরিয়া সারের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা বাড়িয়েছেন। ননইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হয়নি। এমওপি সারের সংকট বাজারে রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুর রহমান জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এ বছর আমন জমি চাষের লক্ষমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ২০৪৫ হেক্টর। চাষের পরিমাণ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের উপজেলার ৮ ইউনিয়নে সারের ৮টি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। প্রত্যেকটি পয়েন্টেই পর্যাপ্ত সার রয়েছে। এখানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা যত সার চাইবেন, পাবেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কারণে সারের দাম কিছুটা বেড়েছে এটা সত্য। তবুও সরকার প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সারের পেছনে ভর্তুকি দিচ্ছেন। এ সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকদের সার প্রদানের ব্যাপারে সরকার কোনো কার্পণ্য করছেন না। এছাড়াও আমরা ইউরিয়ার বিকল্প সার হিসেবে জমির মাটিগুণাগুণ বিবেচনা করে অন্যান্য সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। কিছুটা ফলও পাচ্ছি। আগামী রবি শস্যের জন্যও আমাদের পর্যাপ্ত সার রয়েছে।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার ডিলার পয়েন্টের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, সারের ঘাটতি নেই বলা যায়, তবে সেটা ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে। এমওপি সারের ঘাটতি আছে। ইউরিয়ার দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বাড়লেও ননইউরিয়াতে বাড়েনি।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দত্তবন্দ এলাকায় প্রায় ৭ একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন রশিদ আলী, পাখিমারা হাওরের পাগলা এলাকায় মন্দিরের কিত্তায় ৪ একর জমি চাষ করেছেন বাবুল পাল। জমিচাষ, সার নিয়ে কথা উঠতেই তারা বলেন, সব কিছুর দাম বৃদ্ধি। সারের দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। খরচ বেশি হবে এ বছর। তবে জমিতে পলি পড়ায় ফলন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করেন তারা।
শিমুলবাক ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, জয়নগর বাজার থেকে তিনি নিয়মিত সার কিনেন। গত বছর এক বস্তা সার ৮শ’ থেকে ৮৫০ টাকায় কিনলেও এবার ১১শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ৯ কিয়ার জমি চাষ করেছি এ বছর। খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।