আমরাও ইতিহাসের অংশ

ডিপিপি পাশের পর ফাইল হাতে বা দিক থেকে আইনজীবী ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’র সহকারী সম্পাদক মাহবুবুল হাছান শাহীন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে প্রকল্প সমন্বয়ক শ্যামল রায়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ সচিব সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ।
মাহবুবুল হাছান শাহীন
পিছিয়ে পড়া জনপদের উন্নয়নের অভিযাত্রায় শরীক হওয়ার কিছু ধাপের মধ্যে অন্যতম হলো তার জনগণের শিক্ষা ও চিকিৎসা। অতিব প্রয়োজনীয় এসকল মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ঐ জনপদের মানুষের জন্য সরকারের সুনজর অতিব জরুরী। হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সব সময় পেছনের সারিতে অবস্থান করছিলো। এখানে অনেক বড় মাপের রাজনীতিবিদ ও সরকার সংশ্লিষ্ট মানুষ থাকলেও সু-সমন্বয়ের অভাবে অবকাঠানো উন্নয়ন সহ মৌলিক চাহিদা পূরণ ইত্যাদির দিকে তেমন ভাবে কখনো নজর দেয়া হয়নি। তাই এসকল ক্ষেত্রে দেশের পেছনের সারির জেলাগুলোর সাথে আমাদের অবস্থান ছিলো সব সময়।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দশ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার ফলে সারাদেশে সম-উন্নয়নের দিকে নজর দেয়। অনগ্রসর জেলাগুলোর মধ্যে বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব মমত্ববোধের কারণে, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন আলাদাভাবে নজরে আসে। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে সুনামগঞ্জে নানাবিধ উন্নয়নের সুফল প্রত্যক্ষভাবে জনগণ পেতে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ জেলাকে এসকল উন্নয়নের প্লাটফর্মে উঠানোর অন্যতম কৃতিত্ব সুনামগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান। তার নিজের স্বপ্নের কথা বৃহৎ পরিসরে না বললেও সুনামগঞ্জের উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি একাগ্রভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদেরকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অতিদ্রুতই নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষেই ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে ‘বঙ্গবন্ধু সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ একনেকে পাশ হলো। এগারশো সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পাসকৃত প্রকল্পটি দেশের মডেল মেডিকেল কলেজ হিসাবে নতুন আঙ্গিকে স্থাপিত হবে। অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর কারণে, ভবিষ্যতে স্থাপিত মেডিকেল কলেজগুলো এ আদলেই গড়ে উঠবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ প্রকল্প তার স্বপ্নের প্রকল্প।’ তেমনি সুনামগঞ্জবাসীরও তা স্বপ্নের প্রকল্প। সুনামগঞ্জবাসীর আজ আনন্দের দিন। মেডিকেল কলেজ স্থাপন হাওরাঞ্চল বেষ্টিত এ জেলার জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। স্বাস্থ্য সেবায় এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞ প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে।
গত কিছুদিন যে প্রকল্পগুলো সুনামগঞ্জ জেলার জন্য পাশ হয়েছে মাননীয় মন্ত্রীর পক্ষে প্রকল্প সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা, সুনামগঞ্জের বাঁধন পাড়ার কৃতি সন্তান শ্যামল রায়। মন্ত্রীর আস্তাভাজন হিসাবে প্রতিটি কাজের সঠিক সমন্বয়ে প্রকল্পটি দ্রুত একনেক সভায় তোলা এবং পাশ করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের ডিপিপি (১৮ই অক্টোবর ২০১৮) পাশের সময় তার সৌজন্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। নিজের চোখেই তার একাগ্রতা দেখার সুযোগ হলো। প্রতিটি টেবিলের কাজের শেষে তার চোখের আনন্দ ঝিলিক, সুনামগঞ্জবাসীর প্রতি তার মমত্ববোধ প্রকাশ পায়।
অবশেষে সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সেই সাথে বিভিন্নভাবে পুরো প্রকল্পটি এ পর্যায়ে আনতে অনেকেই নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। একটি সমন্বিত টিম ওয়ার্কের জন্য এ ধরণের প্রকল্প আলোর মুখ দেখলো। সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান সহ সকলকেই কৃতজ্ঞচিত্তে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে সঙ্গেই আমরাও ইতিহাসের অংশ হয়ে রইলাম। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদেরকে স্মরণ করবে, মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়নের প্রজন্ম হিসাবে।
লেখক : আইনজীবী ও সহকারী সম্পাদক দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।