আমাদের মনে রেলের স্বপ্ন ফুল হয়ে ফুটেছে

ঢাকা-সিলেট রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর ও সুনামগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে ওদিকে ময়মনসিংহ নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের মত একটি কবিতা শুনিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। জগন্নাথপুরের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই আশাব্যঞ্জক খবরটি দিয়েছেন শুক্রবার। পরিকল্পনামন্ত্রীর কথায় মানুষের দৃঢ় আস্থা জন্মেছে যে, তিনি যে কথা বলেন তা বাগাড়ম্বর নয়, যেমন অতীতে অনেকে অনেক বলেছেন। তিনি যা বলেন তা করে দেখান। ইতোমধ্যে প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জে বহু অচিন্তনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। কুশিয়ারা সেতু, মেডিক্যাল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, জগন্নাথপুর বিদ্যুৎ সাবস্টেশন; সর্বশেষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তিনি যে বিশাল কবিতার প্লট সাজিয়েছেন তাতে তাঁকে কখনও মিথ্যাভাষণে পটু বলে মনে হয়নি। বরং তিনি ভালোবাসায় বোনা নকশি কাঁথার এক সুনিপুণ কারিগর, এক সত্যাশ্রয়ী কবি, স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার এক করিতকর্মা পুরুষ হিসাবে নিজেকে সুপ্রমাণিত করেছেন। সুতরাং তার মুখ থেকে যে প্রতিশ্রুতি নির্গত হয় তাই বিশ্বাস করি আমরা সকলে। সুনামগঞ্জে রেললাইন সম্প্রসারণের অঙ্গীকার তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যক্ত করে চলেছেন। তাঁর অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল এটি। তিনি এও বলেছেন এর আগে, সরকারের এই মেয়াদেই রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। বারবার আশা দেখিয়ে আশাহত করার ব্যক্তি তিনি নন। তিনি হৃদয় ভাঙার মানুষ নন। তিনি নির্ভেজাল যুক্তির সত্যপ্রিয় সজ্জন ব্যক্তি। আমরা যে স্বপ্ন দেখিনি তিনি তাও যখন করে দেখিয়েছেন তখন রেললাইনের স্বপ্ন তো আমরা জন্মাবধিই দেখে আসছি; সেটি অপূরণ থাকে কী করে তাঁর দ্বারা?
আমাদের একজন স্বল্পকালীন রেলমন্ত্রী ছিলেন। কুশলী ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক তিনি। জাতীয় পর্যায়ে জটিল ইস্যুতে তিনি ব্যস্ত থাকতেন সমাধানসূত্র বের করতে। রাজনীতির ‘রাজনীতি’ এর কারণে তিনি অল্প দিনেই গদি হারান। তিনিও কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু কথা রাখার সময় পাননি তিনি। তাঁকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর আগেও অনেক জাঁদরেল রাজনীতিক ছিলেন এই অঞ্চলের। কেউ নিয়মিত উন্নয়ন কর্মকা-ের বাইরে চমকপ্রদ কিছু করেন নি। কিন্তু এখন চমকপ্রদ উন্নয়ন হচ্ছে। রেললাইন হওয়া সেই অর্থে চমকপ্রদ কিছু নয়। বরং এতদিন কেন হয়নি তাই অবাক করা প্রশ্ন। সারা পৃথিবীর গণযোগাযোগ রেলনির্ভর। বিশ্বের প্রতিটি দেশে স্বল্প ও দূরপাল্লার গন্তব্যগুলো রেল দ্বারা বেষ্টিত। আমাদের দেশটি উলটো। সড়ক বেনিয়াদের কারণে রেল ও জলপথের তেমন উন্নয়ন ঘটেনি বৃটিশ শাসনাবসানের পর। সড়কপথের চাইতে রেলপথ কম ঝুঁকিপূর্ণ ও সুলভ। সড়কের তুলনায় রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। সড়কের তুলনায় রেলের যাত্রী বহন সক্ষমতা বেশি। এতসব গুণ থাকা সত্বেও রেলকে নির্গুণ করে রাখার মাঝে যে সড়ক-বাণিজ্য-কারসাজির অদৃশ্য হাত কার্যকর থেকেছে তাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সরকার বহুদিন পর এটি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। তাই সারা দেশে রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এখন উচ্চকণ্ঠ।
শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না। বিশেষ করে বার বার প্রত্যাশা করেও যখন কেউ কিছু না পাওয়ার বেদনার দহনে দগ্ধ হয় তখন তার ক্ষেত্রে এই বাংলা প্রবচনটি নিদারুণ বাস্তব হয়ে দেখা দেয়। রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে দিয়ে চলেছেন এখন বাস্তবে সেই কাজটি শুরু করতে হবে। দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখার জন্য মানুষ মুািখয়ে আছে। আমরা জানি যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে অনেক জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা থেকে শুরু করে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন; সে এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সমীক্ষার প্রস্তুতি অর্থাৎ এ কাজে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের খবর শুনেছিলাম বহু আগে। এরপর আর কিছু শোনা যায়নি। মন্ত্রী মহোদয়কেই মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে রেলসংক্রান্ত সরকারি লাল ফিতার গিঁটটি দ্রুত খোলতে হবে।