আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যে কারো জন্য ভয়ের

সু.খবর ডেস্ক
আর্জেন্টিনা ফুটবলে ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ এই ৪০ বছরের নায়ক দু’জন। একজন ডিয়াগো ম্যারাডোনা। অন্যজন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। এরমধ্যে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু মেসি এখনো দলকে বড় কোন শিরোপা এনে দিতে পারেননি। অনেকে মনে করেন ম্যারাডোনা তার সতীর্থদের থেকে যতটা সহায়তা পেতেন ততটা সহায়তা মেসি তার সতীর্থদের কাছ থেকে পান না। আর্জেন্টিনা দারুণ একটি আক্রমণ থাকলেও এটা ম্যারাডোনা যুগের আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী আক্রমণ না বলেও অনেকের মত।
এসব বিষয়ে ফিফাডটকমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা তারকা ক্লদিও ক্যানেজিয়া। ম্যারাডোনার সঙ্গে জুঁটি গড়ে খেলা এই সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা কথা বলেছেন মেসিদের রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়েও।
প্রশ্ন: আর কদিন বাদেই শুরু হবে বিশ্বকাপের আসর। কেমন অনুভূতি হচ্ছে আপনার?
ক্যানেজিয়া: এটা অসাধারণ। তবে আমার অন্য বিশ্বকাপের মতোই অনুভূতি হচ্ছে। আমি খুব শান্ত থাকি বিশ্বকাপের সময়। অনেকে আছেন বিশ্বকাপ যতো কাছে এগুবে তাদের ঘুমাতে তত অসুবিধে হবে।
প্রশ্ন: আপনার মতো আরো অনেক আর্জেন্টিনা তারকার কাছে বিশ্বকাপ জেতা একটি অতৃপ্ত ক্ষুধার মতো?
ক্যানেজিয়া: আমাদের পরের ফুটবলাররা অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছে, উন্মুক্ত হয়ে গেছে তারা। আর পাগলাটে ভক্তরা তারকারা যতটা না করে তার চেয়ে বেশি খবর রাখে। আমি শুধু আর্জেন্টনা নিয়ে কথা বলছি না। এটা আসলে এই জেনারেশনের ফুটবলারদের নিয়ে বলছি। এখনকার মতো আমাদের সময়ে ফুটবল এতো গোছালো ছিল না। তবে আমরা অনেক বিশৃংখলার সঙ্গে মানিয়ে খেলেছি। তখন আমাদের ক্ষুধাটা লাখ লাখ ভক্তের প্রতিনিধিত্ব করতো।
প্রশ্ন: আপনি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে রানার্স আপ হয়েছেন। ইতালিতে ১৯৯০ সালে যে দল নিয়ে খেলেছিলেন সেটা অনেকের চোখে সাদামাটা ছিল। কেউ কেউ মনে করে ভাগ্যের জোরে আপনারা ফাইনাল খেলেছিলেন। যদি চোখ বন্ধ করে একবার ফিরে যান?
ক্যানেজিয়া: আমাদের কেউ হারাতে পারেনি। শেষ ষোলোতে প্রথমার্ধে ব্রাজিল বেশ ভীতি সঞ্চর করেছিল (১-০ গোলে আর্জেন্টিনা জয়ী)। সেবার অনেক কিছু আমাদের বিপক্ষে ছিল। ম্যারাডোনা-রাগেরি ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল। পামপিদোর পা ভেঙে গিয়েছিল। ১৯৮৬ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। কিন্তু অসংখ্যা সমস্যা নিয়ে বিশ্ব আসরে এসেছিলাম। কিছু খেলোয়াড় অনুশীলনই করতে পারেনি। কেউ কেউ ইনজেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু আমরা শিরোপার প্রায় কাছাকাছি ছিলাম (জার্মানির কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হার)। ওটা ছিল মানসিক সামর্থের চরম এক উদারহণ।
প্রশ্ন: ব্রাজিলের বিপক্ষে ওই বিশ্বকাপে আপনার গোলে জয় ভক্তদের কাছে এখনো বিশেষ কিছু। কিভাবে দেখেন?
ক্যানেজিয়া: ওটা ছিল অসাধারণ (৮১ মিনিটে একমাত্র গোলে জয়)। আমার কাছে ওটা এখনো আনন্দ এবং গর্বের মুহূর্ত। ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনালের গোলটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষের গোলটি ছিল আলাদা কিছু। সামনে ছিল ব্রাজিলের পাঁচজন। আর আমরা দু’জন। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে আমাকে বাড়ানো পাস ধরে গোল করেছিলাম।
প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে কারো মধ্যে ক্যানেজিয়াকে দেখেন?
ক্যানেজিয়া: না। কারণ বর্তমান ফুটবলে বেশি জায়গা ধরে খেলে এমন খেলোয়াড় খুবই কম। এটা এমন একটা ব্যাপার যা আমাদের আবার ফিরিয়ে আনা দরকার। একজন ভালো এবং দ্রুত গতির স্টাইকার প্রতিপক্ষের জন্য দারুণ ভয়ঙ্কর হতে পারেন।
প্রশ্ন: কেমন বিশ্বকাপ আশা করছেন এবার?
ক্যানেজিয়া: আক্রমণাত্মক, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল। আক্রমণ করে খেলে এমন কিছু দল অবশ্য এবার বাদ পড়েছে। শেষ ষোলোতে দলগুলো এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে খেলবে। তবে যারা সাদামাটা দল তারা রক্ষণাত্মক ধারাই খেলবে।
প্রশ্ন: সবাই এবার আর্জেন্টিনাকে ফেবারিট বলছে। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন তারা এমন কিছু শুনছেন না। আপনি দলে কোন দুর্বলতা দেখেন?
ক্যানেজিয়া: আমার সামনে কিছু দল আছে যাদের দেখতে দারুণ এবং নিটুট। আর্জেন্টিনার এখনো একটা-দুটো সমস্যা আছে। যার সমাধান করা দরকার। কোন দল অজেয় নয়। আমি আর্জেন্টিনার ঘাটতিকে ঠিক দলের দুর্বলতা বলবো না। তারপরও কেমন যেন একটা মনে হচ্ছে। সবাই ভুল করে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে কেউ গোল করতে পারেনি। আমরা করেছিলাম। মানসিক দিকটাই হলো মূল বিষয়।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার শক্তি এবং দুর্বলতা কি কি?
ক্যানেজিয়া: আমাদের পক্ষে যা আছে তা হলো বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ। যা দিয়ে যে কাউকে ভয় দেখানো সম্ভব। তাদের নাম শুনলেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে প্রতিপক্ষ। অন্য দলগুলোর ভাবার সময় নেই যে হিগুয়েইন আর্জেন্টিনায় সমালোচিত হচ্ছে। তারা ভাবছে হিগুয়েইন জুভেন্টাসের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছে। আর আমাদের দুবর্লতা হলো নিচে আমরা এখনো মজবুত না। কয়েকজন অবশ্য দুর্বলতা দূর করার জন্য দলে আছে।
প্রশ্ন: অনেকে বলেন ম্যারাডোনা যেভাবে তার সতীর্থদের কাছে থেকে সহায়তা পেতেন। মেসি সেটা পান না। কি বলবেন?
ক্যানেজিয়া: আমিও তাই মনে করি। ম্যারাডোনা সতীর্থদের কাছ থেকে যে সহায়তা পেতো মেসি সেটা পাচ্ছে না।
প্রশ্ন: ২০০৯ সালের শেষের দিকে কালোর্স বিলার্ডো আপনাকে দলে ফেরার আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আপনার কি মনে হয় আপনি পারফর্ম করতে পারতেন?
ক্যানেজিয়া: আমার তখন বয়স ৪২ বছর। দল থেকে অবসর নিয়েছে সাড়ে চার বছর হয়ে গেছে। আমি খেললে ৩০ মিনিট খেলতে পারতাম। তার বেশি না। তখনো আমি ভালো ফর্মে ছিলাম। গতি ধরে রেখেছিলাম। আমার জন্য আরো একটি বিশ্বকাপ খেলা হতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার।