‘আর নয় এজেন্সিতে, পাসপোর্ট ফরম পূরণ করা হবে ইউডিসিতে’

স্টাফ রিপোর্টার
‘আর নয় এজেন্সিতে, এখন থেকে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা হবে ইউডিসিতে’ এই শ্লোগানে সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত ও পাসপোর্ট করতে আগ্রহীদের হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি)-এ অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা হবে। পাসপোর্টের ফরম পূরণ করতে এখন আর কাউকে দালাল বা কোন এজেন্সিতে যেতে হবে না। বাইরে কোথায়ও পাসপোর্ট ফরম পূরণ ও হয়রানি করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই লক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউনিয়ন ও পৌর ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৮৮ টি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সকল ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় আলোচনায় ছাতকে থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। ভিডিও কনফারেন্সে সভায় উপস্থিত অনেকের সাথেও কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন,‘ পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত ও পাসপোর্ট করতে আগ্রহীদের হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৩৪০০ টাকার পাসপোর্ট করতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হতো। সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-প্রভাষক ও চিকিৎসকদের জাল সিল-স্বাক্ষরে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা হতো। কাউকে আর এসব করতে দেয়া যাবে না। এখন থেকে বাড়ির পাশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা হবে। সকল কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ সত্যায়িত করবেন। ইউনিয়ন পরিষদেই এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পাসপোর্টের ফি জমা দেয়া যাবে। বিষয়টি সকল শ্রেণি পেশার লোকজনকে অবগত করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ফেসবুকেও প্রচার করা হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সপ্তাহব্যাপি মাইকিং করা হবে। লিফলেট প্রচার করা হবে। প্রতিটি মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করা হবে। মানুষকে সচতেন করতে সবধরনের প্রচারণা করা হবে। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও সবাইকে নিয়ে এধরনের সভার আয়োজন করা হবে।’
আলোচনার শুরুতেই অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণের বিষয়গুলো উপস্থিত সবাইকে দেখিয়ে দেন সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক অর্জুন ঘোষ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রদীপ সিংহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি, জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার, দোহালিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা বজলুর রহমান, সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির, ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে সভায় জানান, নির্ধারিত ফি’র বাইরেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন ফরমে নানা ভুল ধরা হতো, টাকা দিলেই কোন ভুল থাকে না। ‘স্পিড মানি’তে স্পিডে কাজ হত। ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের কাজগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুনুর রশিদ বলেন,‘এখন থেকে এধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।’ যে কোন অভিযোগ থাকলে জেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
এরপর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হতে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস প্রাপ্তির বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস প্রাপ্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণে নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন বিআরটিএ সুনামগঞ্জ অফিসের মোটরযান পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রাসেল।